লোগো

2 টি ট্যাগ

ট্যাগ ফিল্টার করুন

আত্মনিয়ন্ত্রণআত্মবিশ্বাসউচ্চ মধ্যবিত্তউচ্চবিত্তউৎসবএকক পরিবারএকক সন্তানএকাধিক সন্তানকর্মজীবী পরিবারকল্পনাশক্তিখাদ্যগ্রামীণ পরিবারডিজিটাল শিক্ষানবজাতক শিশুনিম্ন মধ্যবিত্তনিম্নআয়ের পরিবারনিম্নবিত্তনৈতিক শিক্ষাপড়াশোনার অভ্যাসপরামর্শপারিবারিক ঐতিহ্যপিতামাতাপ্যারেন্টিং ইস্যুপ্রারম্ভিক শিক্ষাবই পড়ার অভ্যাসবয়স ০-১বয়স ১-৩বয়স ১০-১৩বয়স ১৩-১৫বয়স ২-৭বয়স ৩-৫বয়স ৫-৭বয়স ৭-১০বাবা ও শিশুবাংলা শিক্ষাবাংলা সংস্কৃতিবাংলাদেশি প্যারেন্টিংবিনোদনভাষা বিকাশমধ্যবিত্তমননশীলতা মনোযোগ বৃদ্ধিমা ও শিশুমানসিক বিকাশমূল্যবোধযৌথ পরিবারশহুরে পরিবারশারীরিক বিকাশশিক্ষণ পদ্ধতিশিক্ষাশিক্ষামূলক খেলাশিশুশিশু যত্নশিশুর আচরণশিশুর আবেগসম্মানবোধসহানুভূতিসাধারণ সমস্যাসামাজিক দক্ষতাসামাজিক মূল্যবোধসৃজনশীলতাস্কুল প্রস্তুতিস্ক্রিন টাইমস্বাস্থ্যহোমওয়ার্ক
ছোট শিশুর সামনে মা-বাবার কথা কাটাকাটি: ও কি বুঝতে পারে?
জিজ্ঞাসা
ছোট শিশুর সামনে মা-বাবার কথা কাটাকাটি: ও কি বুঝতে পারে?

প্রশ্নঃ আমি প্রথমবার বাবা হয়েছি। আমার মেয়ের বয়স এখন ১ বছর, ওর আর কোনো ভাইবোন নেই। আমরা চেষ্টা করি ওর সামনে ঝগড়া না করতে। কিন্তু মাঝে মাঝে আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়ে যায়। এত ছোট বাচ্চা কি এসব বুঝতে পারে? আমাদের আচরণ কি ওর মানসিক বিকাশে কোনো প্রভাব ফেলতে পারে?

স্কুলে বেশি কথা বলে, বাসায় চুপচাপ: শিশুর আচরণ এত আলাদা কেন হতে পারে?
জিজ্ঞাসা
স্কুলে বেশি কথা বলে, বাসায় চুপচাপ: শিশুর আচরণ এত আলাদা কেন হতে পারে?

প্রশ্নঃ আমি একজন মা। আমার ছেলের বয়স ৭ বছর, ওর ছোট একটা ভাই আছে। স্কুল থেকে প্রায়ই অভিযোগ আসে, ও নাকি ক্লাসে অনেক কথা বলে। কিন্তু বাসায় এসে দেখছি, ও খুব চুপচাপ। আমি বুঝতে পারছি না আসলে কোনটা ওর স্বাভাবিক আচরণ। এমন হলে কী করা উচিত?

“আমি সুন্দর না”, শিশুর নিজের চেহারা নিয়ে দুশ্চিন্তা কীভাবে সামলাবেন
জিজ্ঞাসা
“আমি সুন্দর না”, শিশুর নিজের চেহারা নিয়ে দুশ্চিন্তা কীভাবে সামলাবেন

প্রশ্নঃ আমার দুই মেয়ে। বড়টার বয়স ১০ বছর, ছোটটার ৭ বছর। বড় মেয়েটা এখন প্রায়ই বলে, "আমি মোটা হয়ে গেছি", "আমি সুন্দর না।" এসব কথা শুনে খুব খারাপ লাগে। এত ছোট বয়সে নিজের চেহারা নিয়ে এমন চিন্তা কেন করছে? আমি কীভাবে ওর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারি?

মা অফিস থেকে ফিরলেই শিশুর আঁকড়ে থাকা: স্বাভাবিক, নাকি শিশুকে স্বাধীনতা শেখানো প্রয়োজন?
জিজ্ঞাসা
মা অফিস থেকে ফিরলেই শিশুর আঁকড়ে থাকা: স্বাভাবিক, নাকি শিশুকে স্বাধীনতা শেখানো প্রয়োজন?

প্রশ্নঃ আমি একজন কর্মজীবী মা। আমার ছেলের বয়স ৫ বছর, ওর কোনো ভাইবোন নেই। অফিস থেকে ফিরে দেখি ও শুধু আমার সঙ্গেই থাকতে চায়। আমি রান্নাঘরে গেলেও পেছনে পেছনে আসে। একা খেলতে চায় না। এটা কি স্বাভাবিক, নাকি ওকে ধীরে ধীরে স্বাধীন হতে শেখানো উচিত?

৩ বছরের শিশুর লজ্জা: আত্মবিশ্বাস বাড়াতে মা-বাবা কী করতে পারেন
জিজ্ঞাসা
৩ বছরের শিশুর লজ্জা: আত্মবিশ্বাস বাড়াতে মা-বাবা কী করতে পারেন

প্রশ্নঃ আমি একজন মা। আমার মেয়ের বয়স ৩ বছর, ওর ছোট একটা ভাই আছে। আগে সবাইকে সালাম দিত, কথা বলত। কিন্তু কয়েক মাস ধরে দেখছি, কেউ বাসায় এলে লুকিয়ে থাকে। আত্মীয়রা কিছু জিজ্ঞেস করলেও উত্তর দিতে চায় না। এটা কি শুধু লজ্জা, নাকি ওর আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য এখন থেকেই কিছু করা দরকার?

শিশুর ছোট ছোট মিথ্যা: বকাঝকা না করে সত্য বলার অভ্যাস কীভাবে গড়বেন
জিজ্ঞাসা
শিশুর ছোট ছোট মিথ্যা: বকাঝকা না করে সত্য বলার অভ্যাস কীভাবে গড়বেন

প্রশ্নঃ আমার মেয়ের বয়স ৯ বছর, ওর ছোট একটা ভাই আছে। কয়েক দিন ধরে দেখছি, ছোট ছোট বিষয়েও মিথ্যা বলছে। ধরাও পড়ছে, তারপরও আবার একই কাজ করছে। আমরা কি কোথাও ভুল করছি? বকাঝকা না করে কীভাবে এই অভ্যাসটা ঠিক করা যায়?

পড়তে বসলেই উঠে যায়: শিশুর মনোযোগ কম, নাকি অন্য কোনো সমস্যা?
জিজ্ঞাসা
পড়তে বসলেই উঠে যায়: শিশুর মনোযোগ কম, নাকি অন্য কোনো সমস্যা?

প্রশ্নঃ আমি একজন কর্মজীবী বাবা। আমার ছেলে ৭ বছর বয়সী, ওর ছোট একটা বোন আছে। ও পড়তে বসলে পাঁচ মিনিট পরপর উঠে যায়। কখনো পানি খাবে, কখনো পেন্সিল খুঁজবে, কখনো অন্য কিছু করবে। জোর করলে পড়ে, কিন্তু নিজের থেকে মনোযোগ দিতে পারে না। এটা কি বয়সের কারণে, নাকি অন্য কোনো সমস্যা?

হারলেই ভেঙে পড়ে: শিশুকে মানসিকভাবে শক্ত করে গড়ার উপায়
জিজ্ঞাসা
হারলেই ভেঙে পড়ে: শিশুকে মানসিকভাবে শক্ত করে গড়ার উপায়

প্রশ্নঃ আমার দুই ছেলে। বড়টার বয়স ৮ বছর, ছোটটার ৫ বছর। বড় ছেলে কোনো খেলায় বা পড়াশোনায় হারলে খুব ভেঙে পড়ে। রেগে যায়, কান্না করে, আবার বলে সে আর কখনো খেলবে না। ছোট একটা হারও ও মেনে নিতে পারে না। ওকে কীভাবে মানসিকভাবে শক্ত করে গড়ে তুলতে পারি?

স্কুলে শান্ত, বাসায় রাগী: শিশুর আচরণ এত আলাদা কেন হয়?
জিজ্ঞাসা
স্কুলে শান্ত, বাসায় রাগী: শিশুর আচরণ এত আলাদা কেন হয়?

প্রশ্নঃ আমি একজন বাবা। আমার মেয়ের বয়স ৬ বছর, ওর ছোট একটা ভাই আছে। স্কুলে সবাই বলে ও খুব ভদ্র আর শান্ত। কিন্তু বাসায় ফিরেই ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া করে, রেগে যায়, অনেক সময় খেলনাও ছুড়ে ফেলে। স্কুল আর বাসার আচরণ এত আলাদা কেন হতে পারে?

৩ বছরের শিশুর খাবারে অনীহা: বিস্কুট-চিপস ছাড়িয়ে ভালো খাবারে ফেরানোর উপায়
জিজ্ঞাসা
৩ বছরের শিশুর খাবারে অনীহা: বিস্কুট-চিপস ছাড়িয়ে ভালো খাবারে ফেরানোর উপায়

প্রশ্নঃ আমার ছেলে ৩ বছর বয়সী, ওর কোনো ভাইবোন নেই। আগে মোটামুটি সব খাবারই খেত, কিন্তু এখন শুধু বিস্কুট, দুধ আর চিপস খেলেই খুশি। ভাত বা সবজি দেখলেই মুখ ফিরিয়ে নেয়। না খেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকতে পারে, তবুও ভালো খাবার খেতে চায় না। এটা নিয়ে খুব চিন্তায় আছি।

ভাইবোনের ঈর্ষা: বড় সন্তানের রাগ ও নিরাপত্তাহীনতা কীভাবে সামলাবেন
জিজ্ঞাসা
ভাইবোনের ঈর্ষা: বড় সন্তানের রাগ ও নিরাপত্তাহীনতা কীভাবে সামলাবেন

প্রশ্নঃ আমি দুই সন্তানের মা। বড় মেয়ের বয়স ৫ বছর, ছোট ছেলের ২ বছর। ছোটটা হওয়ার পর থেকে বড় মেয়েটা খুব বদলে গেছে। ভাইকে কেউ আদর করলে ও রেগে যায়, মাঝেমধ্যে ইচ্ছা করে ওকে ধাক্কাও দেয়। আমরা দুজনকেই সমানভাবে ভালোবাসি, তারপরও ওর এমন আচরণ কেন হচ্ছে? কীভাবে ওকে বুঝাব?

দাদির আদর আর মায়ের দুশ্চিন্তা: শিশুর খাবার ও মোবাইল অভ্যাস কীভাবে সামলাবেন?
জিজ্ঞাসা
দাদির আদর আর মায়ের দুশ্চিন্তা: শিশুর খাবার ও মোবাইল অভ্যাস কীভাবে সামলাবেন?

প্রশ্ন: আমি একজন চাকরিজীবী মা। আমার ছেলে ১ বছর ৬ মাসের, ওর আর কোনো ভাইবোন নেই। অফিসে যাওয়ার সময় ওকে ওর দাদির কাছে রেখে যাই। সমস্যা হলো, দাদি ওকে খুব আদর করে প্রায়ই চিপস, চকলেট দেন, আবার খাওয়ানোর সময় মোবাইলে কার্টুনও চালিয়ে দেন। আমি এগুলো একদমই চাই না, কিন্তু কিছু বললে উনি কষ্ট পান। এমন অবস্থায় কী করলে সবাইকে সম্মান রেখেও বিষয়টা সামলানো যায়?

দৈনন্দিন ছোট অভ্যাস কীভাবে শিশুকে দায়িত্বশীল করে তোলে?
মূল্যবোধ
দৈনন্দিন ছোট অভ্যাস কীভাবে শিশুকে দায়িত্বশীল করে তোলে?

আমি আগে ভাবতাম দায়িত্বশীলতা হয়তো বড় হওয়ার পর শেখে মানুষ। চাকরি, সংসার বা জীবনের চাপ সামলাতে সামলাতেই দায়িত্ববোধ আসে। কিন্তু বাবা হওয়ার পর বুঝলাম, দায়িত্বশীল হওয়ার বীজ আসলে অনেক ছোট বয়স থেকেই তৈরি হয়।

শিশুকে ছোটবেলা থেকেই অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অভ্যাস শেখানো কতটা জরুরি? কীভাবে শেখাবেন?
মূল্যবোধ
শিশুকে ছোটবেলা থেকেই অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অভ্যাস শেখানো কতটা জরুরি? কীভাবে শেখাবেন?

যমজ ছেলে হওয়ার পর আমি একটা জিনিস খুব দ্রুত বুঝেছি, ভাগাভাগি শেখানো ভবিষ্যতে আমাদের সবচেয়ে বড় অভিভাবকত্বের চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হতে পারে। যদিও ওরা এখনো ছোট, তবুও মাঝে মাঝে একজনের খেলনা আরেকজনের হাতে গেলে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তখন বুঝতে পারি, “আমার জিনিস”, এই অনুভূতিটা খুব ছোট বয়স থেকেই তৈরি হতে শুরু করে।

কর্মীদের সঙ্গে আপনার আচরণ থেকেই শিশু সম্মানবোধ শিখতে পারে
মূল্যবোধ
কর্মীদের সঙ্গে আপনার আচরণ থেকেই শিশু সম্মানবোধ শিখতে পারে

আমাদের বাসায় যেহেতু যৌথ পরিবার, আর আমি ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকি, তাই গৃহকর্মী বা সহায়তাকারী কর্মীদের উপর অনেক কাজ নির্ভর করে। বিশেষ করে যমজ ছেলে হওয়ার পর বুঝেছি, শিশুকে বড় করতে শুধু মা-বাবা না, বাসার পরিবেশও অনেক বড় ভূমিকা রাখে।

ফ্যামিলি আউটিং কি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে?
বিনোদন
ফ্যামিলি আউটিং কি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে?

আগে আমি ফ্যামিলি আউটিং মানেই ভাবতাম একটু ঘুরতে যাওয়া, ছবি তোলা, বাইরে খাওয়া আর ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফেরা। কিন্তু যমজ ছেলে হওয়ার পর বিষয়টা অন্যভাবে দেখতে শুরু করেছি। এখন যখন ওদের নিয়ে ছাদে হাঁটি, পার্কে যাই বা পরিবারের সবাই মিলে একটু বাইরে বের হই, তখন বুঝতে পারি, শিশুর জন্য বাইরে যাওয়া শুধু বিনোদন না, এটা শেখারও একটা বড় অংশ।

নবজাতকের সার্বিক বিকাশে বাবা কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন?
শিক্ষা
নবজাতকের সার্বিক বিকাশে বাবা কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন?

আমাদের দেশে এখনো অনেক পরিবারে খুব সাধারণ একটা ধারণা হলো নবজাতক শিশু মানেই “মায়ের দায়িত্ব”। বাবা মূলত বাইরে কাজ করবে, উপার্জন করবে, আর শিশুর আসল যত্ন নেবে মা ও পরিবারের অন্য নারীরা। যমজ ছেলে হওয়ার আগে আমিও অনেকটা এমনটাই ভাবতাম। মনে হতো, এত ছোট বাচ্চার সাথে “শেখানো” আবার কী!

শিশুর শিক্ষাকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি?
মূল্যবোধ
শিশুর শিক্ষাকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি?

ফাহমিদা বেগম ছোটবেলায় খুব বেশি পড়াশোনা করতে পারেননি। সংসারের অভাব, দ্রুত কাজের দায়িত্ব, সব মিলিয়ে অল্প বয়সেই স্কুল ছাড়তে হয়েছিল। এখন গার্মেন্টসে দীর্ঘ সময় কাজ করার পরে মাঝে মাঝে তিনি মেয়েদের পড়তে বসা দেখেন আর মনে মনে ভাবেন, “ছেলে-মেয়েদেরকে যেন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারি।”

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় শিশু সুস্থ রাখার উপায়
স্বাস্থ্য
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় শিশু সুস্থ রাখার উপায়

ফাহমিদা বেগমদের বাসাটা একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়। ছোট ছোট ভাড়া বাসা, সরু গলি, পাশের বাসার শব্দ, রাস্তার ধুলো মিলিয়ে জায়গাটা সবসময়ই ব্যস্ত। বাচ্চারা খেলতে বের হলে কখনো ড্রেনের পাশে চলে যায়, কখনো ধুলাবালির মধ্যে দৌড়ায়। শীত এলেই কাশি-সর্দি যেন বাসার স্থায়ী অতিথি হয়ে যায়। এই ধরনের পরিবেশে যারা বড় হয়, তাদের অনেক মা-বাবার মনেই একটা প্রশ্ন থাকে, “এত ভিড় আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যেও শিশুকে কীভাবে সুস্থ রাখা যায়?” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করা মানেই শিশু যে অসুস্থ হবেই এমন না। তবে কিছু বিষয়ে সচেতন থাকলে সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট, অপুষ্টি ও মানসিক চাপের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বায়ুদূষণ ও অপরিষ্কার পরিবেশ।

“সবকিছু পেয়ে যাওয়া” শিশুর ব্যক্তিত্বে কী প্রভাব ফেলে?
মূল্যবোধ
“সবকিছু পেয়ে যাওয়া” শিশুর ব্যক্তিত্বে কী প্রভাব ফেলে?

আমি আর আমার husband দুজনই ডাক্তার। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের মেয়ের কোনো প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাব নেই। বই, খেলনা, সুন্দর পোশাক, ভালো স্কুল, ঘুরতে যাওয়া; যতটুকু সম্ভব আমরা ওর জন্য সেরাটাই দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু মা হওয়ার পর একটা বিষয় খুব দ্রুত বুঝেছি, সন্তানের প্রতি ভালোবাসা আর সন্তানের সব চাওয়া সঙ্গে সঙ্গে পূরণ করে দেওয়া এক জিনিস না।

শিশুর “সবকিছু আমার প্রাপ্য” মানসিকতা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?
মূল্যবোধ
শিশুর “সবকিছু আমার প্রাপ্য” মানসিকতা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?

একদিন মেয়েকে নিয়ে শপিং মলে গিয়েছিলাম। ও একটা খেলনা পছন্দ করেছিল। সেদিন সেটি কেনার কোনো পরিকল্পনা ছিল না, তাই আমি বলেছিলাম, “আজ না।” কিন্তু ওর প্রতিক্রিয়া আমাকে একটু অবাক করেছিল। খুব বিরক্ত হয়ে বলছিল, “কেন না? আমি তো এটা চাই!”

“ইংলিশ মিডিয়াম বনাম বাংলা মিডিয়াম” শহুরে বাবা-মায়ের দ্বিধা
শিক্ষা
“ইংলিশ মিডিয়াম বনাম বাংলা মিডিয়াম” শহুরে বাবা-মায়ের দ্বিধা

আমাদের মেয়ের স্কুলে ভর্তি করার সময় আমি আর আমার স্বামী সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটা শুনেছি, সেটা হলো, “ইংলিশ মিডিয়ামে দিচ্ছেন না?” ঢাকার শহুরে প্যারেন্টিং কালচার -এ সত্যি বলতে একটা নীরব চাপ কাজ করে। বিশেষ করে উচ্চবিত্ত বা উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারে অনেক সময় এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে ইংলিশ মিডিয়াম মানেই ভালো শিক্ষা, ভালো ভবিষ্যৎ, ভালো আত্মবিশ্বাস। আবার অন্যদিকে উল্টো বিচারও আছে। অনেক বাংলা মাধ্যম পরিবার মনে করে ইংলিশ মিডিয়ামের বাচ্চারা বাংলা ভাষা আর সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যায়। এমনকি ছোট বাচ্চাদের মধ্যেও অকারণ একটা বিভাজন তৈরি হয়, “ও ইংলিশ মিডিয়াম”, “ও বাংলা মিডিয়াম”।

কম সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিকল্পনা করবেন কীভাবে?
স্বাস্থ্য
কম সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিকল্পনা করবেন কীভাবে?

আমি আর আমার স্বামী দুজনই ডাক্তার। তাই আমাদের বাসায় প্রতিদিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা করা। সকালে দ্রুত বের হওয়ার তাড়া, সারাদিন হাসপাতালের ব্যস্ততা, আর রাতে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাসায় ফেরা, সব মিলিয়ে প্রতিদিন নতুন করে সুষম খাবার রান্না করা সবসময় সম্ভব হয় না। বাসায় সাহায্যের মানুষ থাকায় কিছুটা সুবিধা হয় ঠিকই, কিন্তু প্রতিদিন কী রান্না হবে, কীভাবে হবে, সবকিছু বিস্তারিত বুঝিয়ে দেওয়াও সহজ নয়। এই কারণেই কয়েক বছর ধরে আমি "মিল প্ল্যানিং" বা আগেভাগে খাবারের পরিকল্পনা করার অভ্যাস গড়ে তুলেছি।

দাদা-দাদী, নানা-নানীর সাথে সম্পর্ক শিশুর মানসিক বিকাশে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
মূল্যবোধ
দাদা-দাদী, নানা-নানীর সাথে সম্পর্ক শিশুর মানসিক বিকাশে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

আমার ছেলে এখন তিন বছরের। আর ছোট মেয়েটা মাত্র তিন মাসের। আমরা শহরে থাকি, কারণ আমার স্বামীর ব্যবসা এখানে। কিন্তু আমাদের দুই পরিবারের বড়রা যেমন দাদা-দাদী, নানা-নানী, সবাই গ্রামে থাকেন। তাই বছরের ছুটির সময়গুলোতে আমরা গ্রামে যাওয়ার চেষ্টা করি। সত্যি কথা বলতে, আগে আমি ভাবতাম এটা শুধু “আত্মীয়দের সাথে দেখা করা”। কিন্তু মা হওয়ার পর বুঝেছি, এই সম্পর্কগুলো শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে অনেক বড় ভূমিকা রাখে।

মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য শিশুর স্ক্রিনবিহীন ১০টি বিনোদনমূলক কার্যক্রম
বিনোদন
মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য শিশুর স্ক্রিনবিহীন ১০টি বিনোদনমূলক কার্যক্রম

এখনকার সময়ে ছোট বাচ্চাকে কিছুক্ষণ শান্ত রাখতে গেলেই সবার আগে মোবাইলের কথা মাথায় আসে। সত্যি বলতে, আমি নিজেও এর বাইরে ছিলাম না। আমার ছেলে যখন বেশি কান্না করত বা আমি রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকতাম, তখন কার্টুন চালিয়ে দেওয়া অনেক সহজ সমাধান মনে হতো। কিন্তু ধীরে ধীরে খেয়াল করলাম, মোবাইল বেশি দেখার দিনগুলোতে ও বেশি রেগে যাচ্ছে, মনোযোগ কমে যাচ্ছে, আর ছোট ছোট জিনিসেও বিরক্ত হচ্ছে। তখন থেকেই ভাবতে শুরু করি, স্ক্রিন ছাড়া কি ওকে আনন্দ দেওয়া সম্ভব?

ব্যস্ত রুটিনের মাঝেও পরিবারের জন্য সময় রাখা কেন জরুরি?
বিনোদন
ব্যস্ত রুটিনের মাঝেও পরিবারের জন্য সময় রাখা কেন জরুরি?

ব্যস্ততা যেন আমাদের সবাইকে একদম জড়িয়ে ফেলছে। আমার স্বামী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যবসার কাজে বাইরে থাকে। বাসায় ফিরে ও ক্লান্ত থাকে, এটা খুব স্বাভাবিক। আর আমি সারাদিন দুই বাচ্চা, রান্না, ঘরের কাজ সামলে দিনের শেষে এমন ক্লান্ত হয়ে যাই যে অনেক সময় নিজের সাথেই কথা বলতে ইচ্ছা করে না। এই ব্যস্ততার মধ্যে বুঝতেই পারিনি যে আমরা একই বাসায় থাকলেও, পরিবারের সাথে খুবই কম পরিমান সময় কাটানো হচ্ছে।

নবজাতক ও টডলারকে একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে মায়ের মানসিক অবসাদ
মননশীলতা
নবজাতক ও টডলারকে একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে মায়ের মানসিক অবসাদ

আগে আমি ভাবতাম, বাচ্চার যত্ন নেওয়া মানে শুধু তাকে খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানো আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। কিন্তু দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর বুঝলাম, বাস্তবতা আসলে অনেক বেশি জটিল। আমার ছোট মেয়েটার বয়স এখন তিন মাস। আর বড় ছেলেটা তিন বছরের। একদিকে নবজাতক শিশুর সারাক্ষণের যত্ন, অন্যদিকে টলমল পায়ে হাঁটা আর দুষ্টুমিতে ভরা একটা ছোট বাচ্চা, দুজনকে একসাথে সামলানো যে কতটা কঠিন হতে পারে, সেটা না হলে বোঝানো মুশকিল। অনেকেই বলে, “তুমি তো বাসায় থাকো, তোমার আবার এত ক্লান্তি কিসের?” কিন্তু বাসায় থাকা আর সারাদিন বিশ্রাম করা যে এক জিনিস নয়, সেটা এখন আমি খুব ভালো বুঝি।

ছোটবেলা থেকেই শিশুকে সহযোগিতার মানসিকতা শেখানো
মূল্যবোধ
ছোটবেলা থেকেই শিশুকে সহযোগিতার মানসিকতা শেখানো

শাহ আলমের ছেলে রাফির বয়স এখন তিন বছর। ছোট্ট একটা ঘরে তাদের সংসার, কিন্তু কাজের যেন শেষ নেই। রাফির মা গর্ভবতী হওয়ায় এখন আগের চেয়ে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায়। একদিন রান্না করার সময় হঠাৎ তার হাত থেকে চামচ পড়ে যায়। তখন ছোট্ট রাফি দৌড়ে গিয়ে চামচটা তুলে দেয়। ঘটনাটা খুব ছোট ছিল, কিন্তু শাহ আলম চুপচাপ সেটা দেখছিল। তার মনে হচ্ছিল, শিশুকে ছোটবেলা থেকেই যদি অন্যকে সাহায্য করতে শেখানো যায়, তাহলে সেটাই হয়তো তার চরিত্রের বড় শক্তি হয়ে দাঁড়াবে।

শিশুর মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলবেন কীভাবে?
স্বাস্থ্য
শিশুর মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলবেন কীভাবে?

শাহ আলম প্রতিদিন রাস্তার পাশে বসে জুতা সেলাই করে। ধুলো, ময়লা, কাদা এসব তার জীবনের স্বাভাবিক অংশ। বাসায় ফিরেও সে দেখে তার তিন বছরের ছেলে রাফি সারাদিন বাইরে খেলাধুলা করে এসে হাত না ধুয়েই ভাত খেতে বসে যায়। কখনো মাটিতে বসে খেলছে, আবার সেই হাত দিয়েই চোখ-মুখ ছুঁয়ে ফেলছে। শাহ আলম আগে ভাবত, “ছোট বাচ্চা, এগুলো তো করবেই।” কিন্তু গত শীতে রাফি বারবার পেট খারাপ আর সর্দি-কাশিতে অসুস্থ হওয়ার পর সে বুঝতে শুরু করে, ছোটবেলা থেকেই পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস শেখানো খুব জরুরি।

সংগ্রামী পরিবেশে শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ানো
মননশীলতা
সংগ্রামী পরিবেশে শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ানো

শাহ আলমের ছেলে রাফির বয়স এখন তিন বছর। ছোট্ট একটা ঘরে তাদের সংসার। বাইরে রাস্তার শব্দ, পাশের ঘরের মানুষের ঝগড়া, কখনো টাকার চিন্তা, সব মিলিয়ে পরিবেশটা খুব শান্ত না। তবুও শাহ আলম একটা জিনিস খুব খেয়াল করে। রাফি যখন কিছু করতে গিয়ে ভয় পায়, বা “আমি পারবো না” বলে পিছিয়ে যায়, তখন তার নিজের বুকটাও কেমন হালকা কেঁপে ওঠে। কারণ সে জানে, অভাবের মধ্যে বড় হওয়া শিশুরা অনেক সময় খুব ছোট বয়স থেকেই নিজের সম্পর্কে হীনমন্যতায় ভুগতে শুরু করে।

স্ক্রিন ছাড়াও কি শিশুর বিনোদন সম্ভব?
বিনোদন
স্ক্রিন ছাড়াও কি শিশুর বিনোদন সম্ভব?

আমি একজন চাকরিজীবী বাবা। সত্যি কথা বলতে কী, অনেক সময় ক্লান্তির কারণে মোবাইল বা কার্টুন আমাদের জন্য সহজ সমাধান হয়ে যায়। অফিস থেকে ফিরে যখন মাথা আর কাজ করতে চায় না, তখন বাচ্চাকে কিছুক্ষণ স্ক্রিনের সামনে বসিয়ে রাখাটা বেশ সহজ মনে হয়। আমিও করেছি। বিশেষ করে আমার চার বছরের ছেলে খুব দ্রুত ইউটিউব আর কার্টুনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছিল। একসময় এমন হয়েছিল, মোবাইল না দিলে সে বিরক্ত হয়ে যেত। তখন আমি আর ওর মা বুঝলাম, বিষয়টা নিয়ে একটু সচেতন হওয়া দরকার।

শিশুর শিক্ষায় বাবার সক্রিয় অংশগ্রহণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
শিক্ষা
শিশুর শিক্ষায় বাবার সক্রিয় অংশগ্রহণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আমি ছোটবেলায় একটা জিনিস খুব বেশি দেখেছি, পরিবারের পড়াশোনার দায়িত্ব সাধারণত মায়ের ওপরই বেশি থাকত। বাবা সংসারের খরচ চালাতেন, আর মা দেখতেন স্কুল, হোমওয়ার্ক, খাতা আর পরীক্ষার বিষয়গুলো। এখন নিজে বাবা হওয়ার পর বুঝছি, এই ধারণাটা এখনো অনেক পরিবারে আছে।

শিশুর শিক্ষায় অনলাইন রিসোর্সের সঠিক ব্যবহার
শিক্ষা
শিশুর শিক্ষায় অনলাইন রিসোর্সের সঠিক ব্যবহার

কয়েক বছর আগেও আমি ভাবতাম পড়াশোনা মানেই বই-খাতা আর স্কুল। কিন্তু এখন সময় অনেক বদলে গেছে। এখন ছোট শিশুরাও ইউটিউবে ছড়া দেখে, মোবাইল অ্যাপে অক্ষর শেখে, অনলাইন গেমের মাধ্যমে সংখ্যা চর্চা করে। একজন বাবা হিসেবে আমিও ধীরে ধীরে বিভিন্ন অনলাইন রিসোর্স ব্যবহার করতে শিখছি। তবে একটা জিনিস খুব দ্রুত বুঝেছি, ইন্টারনেটে শিক্ষামূলক কনটেন্ট অনেক আছে ঠিকই, কিন্তু সব কনটেন্ট সমানভাবে উপকারী নয়। আবার অনলাইন শেখা যদি ভারসাম্য ছাড়া হয়, তাহলে সেটার নেতিবাচক প্রভাবও থাকতে পারে।

ঘুমের অভাব শিশুর শেখার ক্ষমতাকে কীভাবে প্রভাবিত করে?
স্বাস্থ্য
ঘুমের অভাব শিশুর শেখার ক্ষমতাকে কীভাবে প্রভাবিত করে?

বাবা হওয়ার আগে আমি ভাবতাম শিশুদের ঘুম মানে শুধু বিশ্রাম। বাচ্চা ঘুমালে শান্ত থাকে, কম কান্না করে, এই পর্যন্তই। কিন্তু সন্তান বড় হতে শুরু করার পর বুঝলাম, ঘুম আসলে শিশুর শেখা, আচরণ, মনোযোগ, এমনকি মস্তিষ্কের বিকাশের সাথেও গভীরভাবে জড়িত। আমার চার বছরের ছেলে যখন রাতে ঠিকমতো ঘুমায় না, পরের দিন সেটা খুব স্পষ্ট বোঝা যায়। ছোট ছোট বিষয়েও রেগে যায়, মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না, কখনো খেলতে খেলতেই বিরক্ত হয়ে পড়ে। আগে ভাবতাম হয়তো মুড খারাপ। পরে বুঝলাম, অনেক সময় সমস্যার মূল কারণ ঘুমের অভাব।

Financial Stress বাবা-মায়ের আচরণে কিভাবে প্রভাব ফেলে?
মননশীলতা
Financial Stress বাবা-মায়ের আচরণে কিভাবে প্রভাব ফেলে?

আমি আগে ভাবতাম financial stress মানে শুধু টাকার চিন্তা। মাস শেষে হিসাব মিলছে কি না, বাচ্চার স্কুলের খরচ, বাজারের দাম, বাসা ভাড়া, এই পর্যন্তই। কিন্তু সংসার চালাতে চালাতে এখন বুঝি, অর্থনৈতিক চাপ শুধু পকেটে প্রভাব ফেলে না, এটা ধীরে ধীরে মানুষের আচরণ, ধৈর্য, সম্পর্ক, সবকিছুর উপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। আমি একজন চাকরিজীবী মানুষ। একমাত্র ইনকাম সোর্স হিসেবে পরিবারের দায়িত্ব অনেক সময় মাথার উপর ভার হয়ে থাকে। দুই ছোট বাচ্চা, বাবা-মা, সংসারের নিয়মিত খরচ, সব মিলিয়ে এমন অনেক রাত গেছে যখন ঘুমানোর আগেও মাথার মধ্যে হিসাব চলেছে। আর সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো, অনেক সময় নিজের অজান্তেই সেই স্ট্রেস পরিবারের উপর গিয়ে পড়ে।

শিশুর সামনে অপমানজনক বা অশালীন ভাষা ব্যবহার কতটা ক্ষতিকর?
মূল্যবোধ
শিশুর সামনে অপমানজনক বা অশালীন ভাষা ব্যবহার কতটা ক্ষতিকর?

ফাহমিদা বেগমদের বাসার পাশের ঘর থেকে প্রায়ই উচ্চস্বরে ঝগড়ার শব্দ ভেসে আসে। কখনো স্বামী-স্ত্রীর তর্ক, কখনো অপমানজনক কথা, আবার কখনো গালাগালি। শুরুতে তিনি ভাবতেন, ছোট বাচ্চারা এসব বুঝতে পারে না। কিন্তু একদিন হঠাৎ দেখলেন, তার তিন বছরের ছেলে রাগের মাথায় বড় বোনকে এমন একটি খারাপ শব্দ বলছে, যা সে নিশ্চয়ই কোথাও শুনে শিখেছে। সেদিনই তিনি উপলব্ধি করলেন, শিশুরা শুধু আমাদের কথা শোনে না, আমাদের ভাষা ও আচরণও শেখে।

স্ক্রিন টাইমকে কীভাবে লার্নিং টাইমে রূপান্তর করবেন?
শিক্ষা
স্ক্রিন টাইমকে কীভাবে লার্নিং টাইমে রূপান্তর করবেন?

একটা সময় ছিল, যখন আমি ভাবতাম ছোট বাচ্চাদের হাতে মোবাইল বা ট্যাব দেওয়া মানেই খারাপ অভ্যাস। বিশেষ করে একজন মা হিসেবে সবসময় একটা ভয় কাজ করত, বেশি স্ক্রিন ব্যবহার কি আমার মেয়ের মনোযোগ, আচরণ বা শেখার ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে? কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝলাম, আজকের পৃথিবীতে প্রযুক্তিকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব। শিশুরা এখন এমন এক পরিবেশে বড় হচ্ছে, যেখানে স্মার্ট ডিভাইস তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তখন আমি বিষয়টাকে অন্যভাবে ভাবা শুরু করি। “কীভাবে পুরোপুরি বন্ধ করব” এর বদলে “কীভাবে সঠিকভাবে ব্যবহার শেখাব”, এই চিন্তাটাই আমার কাছে বেশি বাস্তবসম্মত মনে হয়েছে।

"শিশুর সঙ্গে কতক্ষণ থাকছেন, নাকি কেমন সময় কাটাচ্ছেন" কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
মননশীলতা
"শিশুর সঙ্গে কতক্ষণ থাকছেন, নাকি কেমন সময় কাটাচ্ছেন" কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

একজন কর্মজীবী মা হিসেবে এই প্রশ্নটা আমি নিজের কাছেই অনেকবার করেছি। কারণ সত্যি বলতে, আমি আর আমার স্বামী দুজনেই ব্যস্ত পেশায় কাজ করি। এমন অনেক দিন যায়, যখন মেয়ের সঙ্গে পুরো দিন কাটানো তো দূরের কথা, ঠিকমতো বসে গল্প করার সময়ও খুব কম পাওয়া যায়। আর তখনই ভেতরে ভেতরে একটা চিন্তা কাজ করে, “আমি কি ওকে যথেষ্ট সময় দিতে পারছি?”

কর্মজীবী বাবা-মায়ের অপরাধবোধ শিশুর উপর কী প্রভাব ফেলে?
মননশীলতা
কর্মজীবী বাবা-মায়ের অপরাধবোধ শিশুর উপর কী প্রভাব ফেলে?

আমি আর আমার স্বামী দুজনই ডাক্তার। কখন জরুরি ডিউটি পড়বে, কখন রাত হয়ে যাবে, আগে থেকে সবসময় বোঝা যায় না। অনেক দিন এমনও হয়েছে, বাসায় ফিরতে ফিরতে মেয়েটা প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছে। একজন মা হিসেবে এই বিষয়টা আমাকে ভীষণ খারাপ লাগায়। আর এই খারাপ লাগা থেকেই হয়তো আগে ওর অনেক আবদার খুব সহজে মেনে নিতাম। নতুন খেলনা, বেশি সময় কার্টুন দেখা, বাইরে খেতে যাওয়া ইত্যাদি। মনে হতো, “সময় তো দিতে পারছি না, অন্তত এগুলো দিয়ে খুশি রাখি।”

শিশুর সামনে বড়দের ঝগড়া আসলে কতটা ক্ষতিকর?
মূল্যবোধ
শিশুর সামনে বড়দের ঝগড়া আসলে কতটা ক্ষতিকর?

আমি আগে সত্যি একটা জিনিস বিশ্বাস করতাম, ছোট বাচ্চারা বড়দের কথা ঠিকমতো বোঝে না। তাই তাদের সামনে একটু উচ্চস্বরে কথা বলা বা তর্ক-বিতর্ক হলে খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা না। কিন্তু মা হওয়ার পর ধীরে ধীরে বুঝেছি, শিশুরা অনেক কিছু ভাষায় বুঝতে না পারলেও পরিবেশ অনুভব করতে পারে। আমার ছেলে যখন প্রায় দুই বছরের, একদিন আমি আর ওর বাবা একটা বিষয় নিয়ে একটু জোরে কথা বলছিলাম। খুব বড় কিছু না, সাধারণ সংসারের ব্যাপার। কিন্তু হঠাৎ খেয়াল করলাম, ছেলে চুপচাপ হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পর এসে আমার কাপড় ধরে দাঁড়িয়ে রইল।

কোন বয়স থেকে বাচ্চার পড়াশোনা শুরু করা উচিত?
শিক্ষা
কোন বয়স থেকে বাচ্চার পড়াশোনা শুরু করা উচিত?

আমার মেয়ের বয়স এখন তিন মাস। এত ছোট একটা বাচ্চাকে দেখে অনেকেই মজা করে বলে, “এখন থেকেই আবার কী শেখাবে?” কিন্তু মজার বিষয় হলো, আমি আর আমার স্বামী এখন থেকেই ওকে বই পড়ে শোনাই। অনেকের কাছে এটা অদ্ভুত লাগতে পারে। কারণ আমাদের দেশে এখনও অনেকেই মনে করেন, পড়াশোনা মানেই খাতা-কলম, অ আ ক খ বা ABC শেখানো। কিন্তু শিশুদের শেখা আসলে এর অনেক আগেই শুরু হয়।

বাবা-সন্তানের বন্ধন মজবুত করতে উইকএন্ড Activities এর ভূমিকা
বিনোদন
বাবা-সন্তানের বন্ধন মজবুত করতে উইকএন্ড Activities এর ভূমিকা

আমি একজন চাকরিজীবী বাবা। সপ্তাহের ছয় দিনই প্রায় অফিস, ট্রাফিক আর দায়িত্বের মধ্যে চলে যায়। সকালে বের হওয়ার সময় বাচ্চারা আধা ঘুমে থাকে, আর রাতে ফিরতে ফিরতে অনেক সময় তারা ঘুমানোর প্রস্তুতি নেয়। ফলে পুরো সপ্তাহে সন্তানদের সাথে কোয়ালিটি টাইম খুব সীমিত হয়ে যায়। তাই এখন উইকএন্ড আমার কাছে শুধু বিশ্রামের দিন না, এটা সন্তানদের সাথে রিকানেক্ট করারও সময়। আগে উইকএন্ড মানেই ছিল ঘুম, বাজার আর বাসার কাজ শেষ করা। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝলাম, শিশুদের জন্য বাবা-মায়ের উপস্থিতি খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বাবার সাথে অ্যাকটিভ ইন্টারঅ্যাকশন শিশুদের অনুভূতির বিকাশ, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক দক্ষতা এর উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বাবা-সন্তানের দূরত্ব কমাতে যেসব খেলা সাহায্য করে
বিনোদন
বাবা-সন্তানের দূরত্ব কমাতে যেসব খেলা সাহায্য করে

ব্যবসার কাজের কারণে আমার দিনের বড় একটা সময় বাইরে কাটে। তাই যমজ ছেলেরা জন্মানোর পর প্রথম কয়েক মাস আমার ভেতরে একটা অদ্ভূত ভয় কাজ করত, “ওরা কি আমাকে যথেষ্ট চিনবে?”, “মায়ের সাথে যেমন কম্ফোর্ট ফিল করে, আমার সাথেও কি করবে?” শুরুতে আমি ভাবতাম, শিশুর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা মানে অনেক বড় কিছু। পরে বুঝলাম, ছোট ছোট মুহূর্তই আসলে সবচেয়ে দৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করে। আর শিশুর সঙ্গে সেই সম্পর্ক গড়ে তোলার সবচেয়ে স্বাভাবিক উপায়গুলোর একটি হলো “খেলা”।

সীমিত আয়ে শিশুর জন্য ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলা
মূল্যবোধ
সীমিত আয়ে শিশুর জন্য ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলা

ফাহমিদা বেগমদের বাসাটা খুব ছোট। এক রুমের ভেতরেই ঘুম, রান্না, পড়াশোনা সব চলে। স্বামীর কাজ কখনো থাকে, কখনো থাকে না। মাসের শেষে টাকার চিন্তা, বাসা ভাড়ার চাপ, বাচ্চাদের স্কুলের খরচ এসব নিয়ে ঘরে অশান্তি হওয়াও নতুন কিছু না। তবু আশেপাশের অনেকেই একটা বিষয় খেয়াল করে যে তাদের বাসায় গেলে বাচ্চাদের মুখে ভয় কম, হাসি বেশি। কারণ ইতিবাচক পারিবারিক পরিবেশ সবসময় টাকার ওপর নির্ভর করে না। অনেক সময় এটি নির্ভর করে ঘরের মানসিক অবস্থার ওপর।

মা কর্মজীবী হলে শিশুর মানসিক নিরাপত্তা কীভাবে বজায় রাখা যায়?
মননশীলতা
মা কর্মজীবী হলে শিশুর মানসিক নিরাপত্তা কীভাবে বজায় রাখা যায়?

ফাহমিদা বেগম প্রতিদিন সকালে খুব ভোরে গার্মেন্টসের উদ্দেশ্যে বের হন। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তিন বছরের ছোট ছেলেটা প্রায়ই কান্না শুরু করে দেয়। কখনো মায়ের কাপড় ধরে টানাটানি করে, কখনো দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। প্রথমদিকে ফাহমিদা ভাবতেন, “এটা হয়তো শুধু আদর পাওয়ার জন্য।” কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি বুঝতে পারেন, ছেলেটার ভেতরে এক ধরনের ভয় কাজ করছে “মা যদি আর ফিরে না আসে?”

Upper-Class পরিবারে শিশুদের Obesity বাড়ার কারণ
স্বাস্থ্য
Upper-Class পরিবারে শিশুদের Obesity বাড়ার কারণ

কিছুদিন আগে মেয়েকে নিয়ে একটা বার্থডে পার্টিতে গিয়েছিলাম। সেখানে খেয়াল করলাম প্রায় সব বাচ্চার হাতেই সফট ড্রিঙ্ক, চিপ্স, চকলেট বা ফাস্ট ফুড। বিষয়টা যদিও নতুন কিছু না, কিন্তু একজন ডাক্তার আবার মা - দুই দিক থেকেই আমি একটা বিষয় খুব খেয়াল করি। সেটা হলো, ইদানিং আপার ক্লাস আর আপার মিডল ক্লাস পরিবারগুলোর শিশুদের মধ্যে অবিসিটি (obesity) বা ওজনাধিক্যের সমস্যা আগের তুলনায় অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। একসময় আমাদের দেশে অপুষ্টি নিয়ে বেশি কথা হতো। তবে এখন তার পাশাপাশি শিশুদের ওজনাধিক্য ও দ্রুত বাড়ছে।

ভাই-বোনের সম্পর্ক মজবুত করতে ঘরোয়া খেলাধুলার গুরুত্ব
বিনোদন
ভাই-বোনের সম্পর্ক মজবুত করতে ঘরোয়া খেলাধুলার গুরুত্ব

আমি আর আমার স্বামী এখন একটা বিষয় নিয়ে প্রায়ই ভাবি, কীভাবে ছেলেমেয়েদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করা যায়। যদিও এখনো ওদের সেরকমভাবে খেলার বয়স হয়নি যেহেতু মেয়েটার বয়স মাত্র ৩ মাস। আমি আশেপাশে অনেক পরিবারেই দেখেছি, ভাইবোন একই ঘরে বড় হলেও তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়। আবার কিছু ভাইবোন আছে, যারা বড় হয়েও একে অপরের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়।

প্রি-স্কুল শিক্ষা শিশুর জন্য কতটা প্রয়োজন?
শিক্ষা
প্রি-স্কুল শিক্ষা শিশুর জন্য কতটা প্রয়োজন?

আমার মেয়ের যখন তিন বছর বয়স, তখন থেকেই আশেপাশে একটা প্রশ্ন খুব বেশি শুনতাম, “স্কুলে দিচ্ছেন না এখনো?” শহরের অনেক পরিবারেই এখন প্রি-স্কুল শিক্ষা যেন এক ধরনের প্রতিযোগিতা হয়ে গেছে। কে কত তাড়াতাড়ি বাচ্চাকে স্কুলে দিলো, কে আগে লিখতে শেখালো, কে আগে ইংরেজি শেখালো, এসব নিয়ে মা-বাবাদের মধ্যেই একধরনের অদৃশ্য চাপ কাজ করে। একসময় আমিও দ্বিধায় পড়ে যেতাম। সত্যিই কি এত ছোট বয়সে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু করা জরুরী?

অতিরিক্ত রুটিন কি শিশুর স্বাভাবিক আবেগ কমিয়ে দেয়?
মননশীলতা
অতিরিক্ত রুটিন কি শিশুর স্বাভাবিক আবেগ কমিয়ে দেয়?

আমার মেয়ের বয়স এখন পাঁচ। আর সত্যি বলতে, ওর দৈনন্দিন রুটিন কখনো কখনো আমার নিজের ছোটবেলার পুরো সপ্তাহের রুটিনের থেকেও বেশি গোছানো মনে হয়। স্কুল, আর্ট ক্লাস, ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ, ইংরেজি চর্চা, ইত্যাদি সব মিলিয়ে ওর সময় প্রায় পুরোটা আগেই ভাগ করা থাকে।

শিশুকে বকাঝকা না করেও কি শৃঙ্খলা শেখানো সম্ভব?
শিক্ষা
শিশুকে বকাঝকা না করেও কি শৃঙ্খলা শেখানো সম্ভব?

“বাচ্চাকে একটু ভয় না দেখালে বা বকা না দিলে সে কখনো কথা শুনবে না” – এরকমটা মনে করেন অধিকাংশ বাবা মা-ই. তাদের ভেতরে একটা জিনিস কাজ করে, “আমরা নিজেরাও তো এমন পরিবেশেই বড় হয়েছি।" “চুপ করো”, “এটা করো না”, “আরেকবার করলে মারবো” - এই ধরনের কথা কিন্তু আমাদের কাছে খুব স্বাভাবিক ছিল।

শিশুর সাথে মা-বাবার ইমোশনাল বন্ডিং
মননশীলতা
শিশুর সাথে মা-বাবার ইমোশনাল বন্ডিং

মা হওয়ার আগে আমি ভাবতাম বাচ্চাকে ভালো খাবার দেওয়া, পরিষ্কার রাখা আর ভালো স্কুলে ভর্তি করানোর চিন্তাটাই বুঝি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মা হওয়ার পর বুঝেছি, শিশুর জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর একটি হলো বাবা-মায়ের সাথে ইমোশনাল বন্ডিং বা মানসিক সংযোগ।

বাচ্চাদের মনের বিকাশ: খেলাধুলা ও বইপড়া
শিক্ষা
বাচ্চাদের মনের বিকাশ: খেলাধুলা ও বইপড়া

আমরা অনেক সময় আমাদের শিশুরা যখন খেলতে বসে, তখন তাকে থামিয়ে দিয়ে পড়তে বসাই বা যখন বই নিয়ে বসে, তখন তাকে খেলতে পাঠাই। আমরা বইপড়া ও খেলাধুলাকে অনেক সময় আলাদা করে দেখি, কিন্তু সত্যিটা হলো খেলাধুলা এবং বইপড়া দুইটিই শিশুর জন্য সমান গুরুত্বের এবং এগুলো একসাথে শিশুর মনের সঠিক বিকাশে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে।

শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করা
মূল্যবোধ
শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করা

সচেতন অভিভাবক হিসেবে আমাদের একটি গুরু দায়িত্ব হচ্ছে আমাদের শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করা, কেননা এটি একটি শিশুর পরিচয়, মূল্যবোধ এবং মানসিক গঠনের সাথে গভীরভাবে জড়িত। একটি শিশু যখন ছোটবেলা থেকেই নিজের দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে শুরু করে, তখন সে নিজের শিকড় সম্পর্কে সচেতন হয় এবং নিজের পরিচয় নিয়ে গর্ববোধ করতে শেখে। নিজের দেশের সংস্কৃতি জানার মাধ্যমে একটি শিশু বুঝতে পারে তার ভাষা, ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং সমাজের গুরুত্ব কী। এই কারণেই শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি শেখানো শুধু একটি অতিরিক্ত বিষয় নয়, বরং তার সঠিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। নিজের দেশের সংস্কৃতি একটি শিশুর আত্মপরিচয় গঠনে সহায়তা করে এবং তাকে আত্মবিশ্বাসীও করে তোলে।

শিশুকে পরিবার ও সমাজের নিয়ম মেনে চলার গুরুত্ব শেখানো
মূল্যবোধ
শিশুকে পরিবার ও সমাজের নিয়ম মেনে চলার গুরুত্ব শেখানো

শিশুকে পরিবার ও সমাজের নিয়ম মেনে চলার গুরুত্ব শেখানো তার সার্বিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছোটবেলা থেকেই যদি একটি শিশু বুঝতে শেখে যে কিছু নিয়ম আছে, যা মেনে চলা দরকার, তাহলে সে ধীরে ধীরে দায়িত্বশীল, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং সহানুভূতিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। পরিবার হলো শিশুর প্রথম শেখার জায়গা, আর সমাজ সেই শেখাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার ক্ষেত্র। তাই এই দুই জায়গার নিয়ম সম্পর্কে শিশুকে সহজভাবে জানানো এবং তা মানতে উৎসাহ দেওয়া খুবই প্রয়োজন।

শিশুদের ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স উন্নয়ন
মননশীলতা
শিশুদের ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স উন্নয়ন

আমরা অনেকেই ভেবে থাকি শিশুদের সঠিক বিকাশ শুধু পড়াশোনা বা বুদ্ধিমত্তার উপর নির্ভর করে, কিন্তু বাস্তবে বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি শিশুদের সঠিক বিকাশ তাদের আবেগ বোঝা, নিয়ন্ত্রণ করা এবং অন্যের অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার উপরও নির্ভর করে। আর এই দক্ষতাকেই বলা হয় ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা। একজন শিশু যদি ছোটবেলা থেকেই নিজের অনুভূতি বুঝতে শেখে এবং সেগুলোকে সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারে, তাহলে তার মানসিক, সামাজিক এবং আচরণগত বিকাশ অনেক বেশি সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়। মনোবিজ্ঞানী Daniel Goleman তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন যে জীবনে সফলতার ক্ষেত্রে শুধু আইকিউ নয়, বরং ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি শিশু যখন নিজের আবেগ চিনতে পারে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে, তখন সে ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী এবং সামাজিকভাবে দক্ষ মানুষ হয়ে ওঠে।

শিশুর আত্মপরিচয় ও আত্মসম্মান গড়ে তোলা
মননশীলতা
শিশুর আত্মপরিচয় ও আত্মসম্মান গড়ে তোলা

শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় হচ্ছে আত্মপরিচয় (Self-Identity) ও আত্মসম্মান (Self-Esteem) । আত্মপরিচয় বলতে বোঝায় একটি শিশু ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে সে কে, তার কী কী গুণ আছে, সে কী করতে পারে এবং কোন কাজগুলো করতে তার ভালো লাগে।

শিশুর সমাজবোধ ও সহযোগিতা শেখানো
মূল্যবোধ
শিশুর সমাজবোধ ও সহযোগিতা শেখানো

শিশুর জীবনের শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যের জন্য চিন্তা করা,সহযোগিতা করা এবং সমাজের সাথে মিলেমিশে থাকা আয়ত্ত করা। এই গুণগুলো শিশুর মানসিক বিকাশ, সামাজিক দক্ষতা এবং সবার সাথে সুসম্পর্ক গড়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। যখন একটি শিশু ছোট বেলায় অন্যকে সাহায্য করা, অন্যের সাথে ভাগ করা এবং একসাথে কাজ করার অভ্যাস করে, তখন সে ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে যে তার আচরণ এবং সিদ্ধান্ত অন্যের উপর প্রভাব ফেলে। এই উপলব্ধি তাকে দায়িত্ববোধ, সমবেদনা এবং ইতিবাচক সামাজিক আচরণ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।