লোগো

Financial Stress বাবা-মায়ের আচরণে কিভাবে প্রভাব ফেলে?

Financial Stress বাবা-মায়ের আচরণে কিভাবে প্রভাব ফেলে?

আমি আগে ভাবতাম financial stress মানে শুধু টাকার চিন্তা। মাস শেষে হিসাব মিলছে কি না, বাচ্চার স্কুলের খরচ, বাজারের দাম, বাসা ভাড়া, এই পর্যন্তই। কিন্তু সংসার চালাতে চালাতে এখন বুঝি, অর্থনৈতিক চাপ শুধু পকেটে প্রভাব ফেলে না, এটা ধীরে ধীরে মানুষের আচরণ, ধৈর্য, সম্পর্ক, সবকিছুর উপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। আমি একজন চাকরিজীবী মানুষ। একমাত্র ইনকাম সোর্স হিসেবে পরিবারের দায়িত্ব অনেক সময় মাথার উপর ভার হয়ে থাকে। দুই ছোট বাচ্চা, বাবা-মা, সংসারের নিয়মিত খরচ, সব মিলিয়ে এমন অনেক রাত গেছে যখন ঘুমানোর আগেও মাথার মধ্যে হিসাব চলেছে। আর সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো, অনেক সময় নিজের অজান্তেই সেই স্ট্রেস পরিবারের উপর গিয়ে পড়ে।

একসময় আমি খেয়াল করলাম, যেদিন financial stress বেশি থাকে, সেদিন ছোটখাটো বিষয়েও রাগ বেশি হয়। ছেলে হয়তো পানি ফেলেছে, বা মেয়ে কান্না করছে, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও বিরক্তি চলে আসে। পরে আবার নিজের কাছেই খারাপ লাগে। তখন বুঝলাম, স্ট্রেস শুধু মাথার ভেতরে থাকে না, আচরণেও বের হয়ে আসে।
মনোবিজ্ঞান অনুযায়ী financial stress মানুষের নার্ভাস সিস্টেম-এর উপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে পারে। যখন কেউ সবসময় ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকে, তখন শরীরে কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়। এই দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস মানুষের patience, emotional control এবং decision-making ability কমিয়ে দিতে পারে।
বিশেষ করে বাবা-মায়ের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও বেশি দেখা যায়। কারণ তারা শুধু নিজের জন্য না, পুরো পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েই চিন্তা করেন।
আমি অনেক সময় দেখেছি, ফাইন্যান্সিয়াল টেনশন থাকলে মানুষ মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বাইরে থেকে সব ঠিকঠাক মনে হলেও ভেতরে ভেতরে সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। 
আমার ছেলে একদিন খেলতে ডাকছিল, কিন্তু আমি তখন শুধু মাসের খরচের হিসাব ভাবছিলাম। আমি ওকে কয়েকবার “পরে” বলেছিলাম। পরে হঠাৎ মনে হলো, বাচ্চা তো বুঝবে না ফাইন্যান্সিয়াল প্রেসার কী। সে শুধু বুঝবে বাবা তার সাথে সময় কাটাতে চাইছে না।
রিসার্চ বলছে, ক্রনিক financial stress প্যারেন্ট-চাইল্ড ইন্টারঅ্যাকশনের কোয়ালিটি কমিয়ে দিতে পারে। বাবা-মা তখন
• বেশি ইরিটেটিভ হয়ে যেতে পারেন
• ধৈর্য কম দেখাতে পারেন
• শিশুদের সাথে কম এনগেজ করতে পারেন
• ইমোশনালি ডিস্ট্যান্ট হয়ে যেতে পারেন
এর প্রভাব শিশুদের উপরও পড়ে।
শিশুরা সরাসরি টাকা-পয়সার বিষয় না বুঝলেও বাসার ইমোশনাল এনভায়রনমেন্ট বুঝতে পারে। তারা টের পায়
• বাসায় টেনশন আছে কিনা
• বাবা-মা বেশি রেগে যাচ্ছে কিনা
• সম্পর্কের মধ্যে চাপ আছে কিনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন টেন্স ফ্যামিলি এনভায়রনমেন্টে বড় হলে শিশুদের দুঃচিন্তা, অনিরাপত্তা অনুভূতি বা আচরণগত সমস্যা বাড়তে পারে।
জয়েন্ট ফ্যামিলিতে financial stress অনেক সময় আরও কমপ্লেক্স হয়ে যায়। কারণ সেখানে দায়িত্বও বেশি থাকে, অপিনিয়নও বেশি থাকে। আমাদের বাসাতেও কখনো কখনো খরচ নিয়ে আলোচনা বা চাপের পরিবেশ তৈরি হয়। আগে আমি ভাবতাম সবকিছু একা হ্যান্ডেল করাই দায়িত্ব। কিন্তু পরে বুঝেছি, সব স্ট্রেস চেপে রাখলে সেটা আচরণে আরও নেগেটিভলি বের হয়।
এখন আমি একটা বিষয় কনশাসলি চেষ্টা করি, স্ট্রেস থাকলেও কমিউনিকেশন বন্ধ না করা।
যেমনঃ
• স্ত্রীর সাথে শান্তভাবে কথা বলা
• অপ্রয়োজনীয় রাগ না ঝাড়া
• বাচ্চাদের উপর ফ্রাস্ট্রেশন না ফেলা
সবসময় পারি না, কিন্তু চেষ্টা করি।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের যত্ন। আমাদের সমাজে অনেক বাবা মনে করেন নিজের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবা বিলাসিতা। কিন্তু সায়েন্স বলছে, মানসিকভাবে ক্লান্ত অভিভাবকদের ভালো প্যারেন্টিং করা কঠিন হয়ে যায়। 
তাই এখন আমি ছোট ছোট কিছু জিনিস গুরুত্ব দিই—
• পর্যাপ্ত ঘুম
• পরিবার নিয়ে কিছু সময় বসা
• স্ট্রেস নিয়ে কথা বলা
• আনরিয়ালিস্টিক কম্পারিজন কমানো
কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের লাইফস্টাইল দেখে নিজের জীবনকে ফেইলিউর মনে করাও স্ট্রেস বাড়ায়।
আমি এটাও বুঝেছি, শিশুরা সবসময় এক্সপেন্সিভ জিনিস চায় না। অনেক সময় তারা শুধু শান্ত একটা পরিবেশ চায়। আমার ছেলে হয়তো বুঝবে না মাস শেষে ব্যাংক ব্যালেন্স কত ছিল। কিন্তু সে বুঝবে বাসায় সবসময় রাগ আর টেনশন ছিল কিনা।
Financial stress বাস্তব। বিশেষ করে মিডল-ক্লাস পরিবারে এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু সেই স্ট্রেস যদি ধীরে ধীরে সম্পর্ক নষ্ট করতে শুরু করে, তাহলে ক্ষতিটা শুধু অর্থনৈতিক থাকে না, ইমোশনালও হয়ে যায়।
আমি এখনো প্রতিদিন ব্যালান্স করতে শিখছি। এখনো অনেক রাতে হিসাব মেলে না। কিন্তু অন্তত একটা জিনিস বুঝেছি, পরিবারের মানুষদের ইমোশনাল সিকিউরিটিও সংসারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের অংশ।
কারণ শেষ পর্যন্ত শিশুরা শুধু কত টাকা ছিল সেটা মনে রাখে না, তারা মনে রাখে কঠিন সময়েও বাবা-মা কেমন আচরণ করেছিল।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন:

FacebookTwitterWhatsAppTelegramLinkedIn

💬 মন্তব্য (0)

মন্তব্য লোড হচ্ছে...

মন্তব্য লিখুন

0/1000