লোগো

3 টি ট্যাগ

ট্যাগ ফিল্টার করুন

আত্মনিয়ন্ত্রণআত্মবিশ্বাসউচ্চ মধ্যবিত্তউচ্চবিত্তউৎসবএকক পরিবারএকক সন্তানএকাধিক সন্তানকর্মজীবী পরিবারকল্পনাশক্তিখাদ্যগ্রামীণ পরিবারডিজিটাল শিক্ষানবজাতক শিশুনিম্ন মধ্যবিত্তনিম্নআয়ের পরিবারনিম্নবিত্তনৈতিক শিক্ষাপড়াশোনার অভ্যাসপরামর্শপারিবারিক ঐতিহ্যপিতামাতাপ্যারেন্টিং ইস্যুপ্রারম্ভিক শিক্ষাবই পড়ার অভ্যাসবয়স ০-১বয়স ১-৩বয়স ১০-১৩বয়স ১৩-১৫বয়স ২-৭বয়স ৩-৫বয়স ৫-৭বয়স ৭-১০বাবা ও শিশুবাংলা শিক্ষাবাংলা সংস্কৃতিবাংলাদেশি প্যারেন্টিংবিনোদনভাষা বিকাশমধ্যবিত্তমননশীলতা মনোযোগ বৃদ্ধিমা ও শিশুমানসিক বিকাশমূল্যবোধযৌথ পরিবারশহুরে পরিবারশারীরিক বিকাশশিক্ষণ পদ্ধতিশিক্ষাশিক্ষামূলক খেলাশিশুশিশু যত্নশিশুর আচরণশিশুর আবেগসম্মানবোধসহানুভূতিসাধারণ সমস্যাসামাজিক দক্ষতাসামাজিক মূল্যবোধসৃজনশীলতাস্কুল প্রস্তুতিস্ক্রিন টাইমস্বাস্থ্যহোমওয়ার্ক
১০ মাসের শিশুর খাবার নিয়ে দ্বিধা: কার পরামর্শ শুনবেন, কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন
জিজ্ঞাসা
১০ মাসের শিশুর খাবার নিয়ে দ্বিধা: কার পরামর্শ শুনবেন, কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন

প্রশ্নঃ আমি প্রথমবার মা হয়েছি। আমার মেয়ের বয়স এখন ১০ মাস, ওর আর কোনো ভাইবোন নেই। বাসার সবাই একেকজন একেক রকম পরামর্শ দেন। কেউ বলেন এখন থেকেই সব খাবার দিতে, কেউ বলেন আরও অপেক্ষা করতে। এত ভিন্ন ভিন্ন কথা শুনে খুব দ্বিধায় আছি। এমন পরিস্থিতিতে কোন বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত? প্রথমবার মা হলে শিশুর খাবার নিয়ে দ্বিধায় পড়া খুব স্বাভাবিক। বিশেষ করে বাসার সবাই যখন একেকজন একেক রকম পরামর্শ দেন। যেমনঃ কেউ বলেন “এখন থেকেই সব খাওয়াও”, কেউ বলেন “আরও অপেক্ষা করো”, তখন একজন মায়ের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু শিশুর খাবারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বয়স, নিরাপত্তা, পুষ্টি এবং শিশুর প্রস্তুতি। শুধু বড়দের অভিজ্ঞতা নয়।

মোবাইল ছাড়া খেতে চায় না: শিশুর এই অভ্যাস ধীরে ধীরে কীভাবে কমাবেন
জিজ্ঞাসা
মোবাইল ছাড়া খেতে চায় না: শিশুর এই অভ্যাস ধীরে ধীরে কীভাবে কমাবেন

প্রশ্নঃ আমার ছেলে ৪ বছর বয়সী, একমাত্র সন্তান। প্রথম প্রথম খাওয়ানোর সময় মোবাইল দিতাম। এখন এমন হয়েছে, মোবাইল ছাড়া এক লোকমাও খায় না। মোবাইল বন্ধ করলেই কান্না শুরু করে। ধীরে ধীরে এই অভ্যাস কীভাবে বাদ দিতে পারি?

৩ বছরের শিশুর খাবারে অনীহা: বিস্কুট-চিপস ছাড়িয়ে ভালো খাবারে ফেরানোর উপায়
জিজ্ঞাসা
৩ বছরের শিশুর খাবারে অনীহা: বিস্কুট-চিপস ছাড়িয়ে ভালো খাবারে ফেরানোর উপায়

প্রশ্নঃ আমার ছেলে ৩ বছর বয়সী, ওর কোনো ভাইবোন নেই। আগে মোটামুটি সব খাবারই খেত, কিন্তু এখন শুধু বিস্কুট, দুধ আর চিপস খেলেই খুশি। ভাত বা সবজি দেখলেই মুখ ফিরিয়ে নেয়। না খেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকতে পারে, তবুও ভালো খাবার খেতে চায় না। এটা নিয়ে খুব চিন্তায় আছি।

দাদির আদর আর মায়ের দুশ্চিন্তা: শিশুর খাবার ও মোবাইল অভ্যাস কীভাবে সামলাবেন?
জিজ্ঞাসা
দাদির আদর আর মায়ের দুশ্চিন্তা: শিশুর খাবার ও মোবাইল অভ্যাস কীভাবে সামলাবেন?

প্রশ্ন: আমি একজন চাকরিজীবী মা। আমার ছেলে ১ বছর ৬ মাসের, ওর আর কোনো ভাইবোন নেই। অফিসে যাওয়ার সময় ওকে ওর দাদির কাছে রেখে যাই। সমস্যা হলো, দাদি ওকে খুব আদর করে প্রায়ই চিপস, চকলেট দেন, আবার খাওয়ানোর সময় মোবাইলে কার্টুনও চালিয়ে দেন। আমি এগুলো একদমই চাই না, কিন্তু কিছু বললে উনি কষ্ট পান। এমন অবস্থায় কী করলে সবাইকে সম্মান রেখেও বিষয়টা সামলানো যায়?

সপ্তাহে একদিনের পারিবারিক ঘোরাঘুরি: সন্তানের জন্য অমূল্য উপহার
বিনোদন
সপ্তাহে একদিনের পারিবারিক ঘোরাঘুরি: সন্তানের জন্য অমূল্য উপহার

শাহ আলম সপ্তাহে ছয় দিন রাস্তার পাশে বসে জুতা মেরামতের কাজ করে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ, তারপর সংসারের হিসাব, বাজারের চিন্তা, বাড়িভাড়া, ওষুধ, সব মিলিয়ে জীবনটা যেন প্রতিদিন একই ছন্দে আটকে আছে। তার স্ত্রীও অন্যের বাসায় কাজ করেন। এখন তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তাই আগের মতো সবকিছু সামলাতে গিয়ে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তিন বছরের ছেলে রাফি বেশিরভাগ সময় ছোট্ট ঘরের ভেতরেই খেলাধুলা করে।

সবচেয়ে দামী খেলনা কি বাবা-মায়ের মনোযোগের বিকল্প হতে পারে?
বিনোদন
সবচেয়ে দামী খেলনা কি বাবা-মায়ের মনোযোগের বিকল্প হতে পারে?

সন্তান হওয়ার পর একটা জিনিস আমি খুব কাছ থেকে বুঝেছি, বাজারে শিশুদের জন্য জিনিসের কোনো শেষ নেই। দামি মিউজিক্যাল খেলনা, স্মার্ট শেখার যন্ত্র, স্বয়ংক্রিয় দোলনা, বিদেশি অ্যাক্টিভিটি সেট দেখে অনেক সময় মনে হয়, “এসব না কিনলে বুঝি শিশুর বিকাশ পিছিয়ে যাবে।” আমাদের মতো উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারে এই চাপ আরও বেশি। আত্মীয়স্বজনও অনেক সময় বলেন, “বাচ্চাদের জন্য সেরা জিনিসটাই তো নিতে হবে।” আমিও শুরুতে ভাবতাম, বেশি দামি খেলনা মানেই হয়তো বেশি শেখা।

নবজাতকের সার্বিক বিকাশে বাবা কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন?
শিক্ষা
নবজাতকের সার্বিক বিকাশে বাবা কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন?

আমাদের দেশে এখনো অনেক পরিবারে খুব সাধারণ একটা ধারণা হলো নবজাতক শিশু মানেই “মায়ের দায়িত্ব”। বাবা মূলত বাইরে কাজ করবে, উপার্জন করবে, আর শিশুর আসল যত্ন নেবে মা ও পরিবারের অন্য নারীরা। যমজ ছেলে হওয়ার আগে আমিও অনেকটা এমনটাই ভাবতাম। মনে হতো, এত ছোট বাচ্চার সাথে “শেখানো” আবার কী!

শিশুর শিক্ষাকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি?
মূল্যবোধ
শিশুর শিক্ষাকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি?

ফাহমিদা বেগম ছোটবেলায় খুব বেশি পড়াশোনা করতে পারেননি। সংসারের অভাব, দ্রুত কাজের দায়িত্ব, সব মিলিয়ে অল্প বয়সেই স্কুল ছাড়তে হয়েছিল। এখন গার্মেন্টসে দীর্ঘ সময় কাজ করার পরে মাঝে মাঝে তিনি মেয়েদের পড়তে বসা দেখেন আর মনে মনে ভাবেন, “ছেলে-মেয়েদেরকে যেন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারি।”

শিশু শিক্ষার জন্য কার্যকর রুটিন অনুসরণ করানো
শিক্ষা
শিশু শিক্ষার জন্য কার্যকর রুটিন অনুসরণ করানো

ফাহমিদা বেগমের বাসায় পড়াশোনার জন্য আলাদা কোনো শান্ত পরিবেশ নেই। এক রুমের ঘরে টিভির শব্দ, রান্নার আওয়াজ, ছোট ছেলের কান্না এসবকিছুর মাঝেই বড় দুই মেয়েকে পড়তে বসতে হয়। কখনো তারা রাতে পড়ে, কখনো সকালে, আবার কোনোদিন একদমই বসতে চায় না।

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় শিশু সুস্থ রাখার উপায়
স্বাস্থ্য
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় শিশু সুস্থ রাখার উপায়

ফাহমিদা বেগমদের বাসাটা একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়। ছোট ছোট ভাড়া বাসা, সরু গলি, পাশের বাসার শব্দ, রাস্তার ধুলো মিলিয়ে জায়গাটা সবসময়ই ব্যস্ত। বাচ্চারা খেলতে বের হলে কখনো ড্রেনের পাশে চলে যায়, কখনো ধুলাবালির মধ্যে দৌড়ায়। শীত এলেই কাশি-সর্দি যেন বাসার স্থায়ী অতিথি হয়ে যায়। এই ধরনের পরিবেশে যারা বড় হয়, তাদের অনেক মা-বাবার মনেই একটা প্রশ্ন থাকে, “এত ভিড় আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যেও শিশুকে কীভাবে সুস্থ রাখা যায়?” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করা মানেই শিশু যে অসুস্থ হবেই এমন না। তবে কিছু বিষয়ে সচেতন থাকলে সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট, অপুষ্টি ও মানসিক চাপের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বায়ুদূষণ ও অপরিষ্কার পরিবেশ।

শিশুর স্ক্রিন টাইম: শুধু বিনোদন নয়, শেখার সুযোগও হতে পারে
বিনোদন
শিশুর স্ক্রিন টাইম: শুধু বিনোদন নয়, শেখার সুযোগও হতে পারে

আমাদের বাসায় একটা সময় ছিল, যখন স্ক্রিন টাইম নিয়ে আমি খুবই বিরক্ত হয়ে যেতাম। হাসপাতালে দীর্ঘ সময় কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে দেখতাম, আমার মেয়ে ট্যাবলেট নিয়ে কার্টুন দেখছে। প্রথমে মনে হতো, পুরো বিষয়টাই একদম বন্ধ করে দিই। কিন্তু পরে বুঝলাম, আজকের সময়ে স্ক্রিন পুরোপুরি এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব। বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিশু স্ক্রিনে কী দেখছে, কতক্ষণ দেখছে, আর কীভাবে ব্যবহার করছে। সত্যি বলতে, সব স্ক্রিন টাইম একরকম না।

“ইংলিশ মিডিয়াম বনাম বাংলা মিডিয়াম” শহুরে বাবা-মায়ের দ্বিধা
শিক্ষা
“ইংলিশ মিডিয়াম বনাম বাংলা মিডিয়াম” শহুরে বাবা-মায়ের দ্বিধা

আমাদের মেয়ের স্কুলে ভর্তি করার সময় আমি আর আমার স্বামী সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটা শুনেছি, সেটা হলো, “ইংলিশ মিডিয়ামে দিচ্ছেন না?” ঢাকার শহুরে প্যারেন্টিং কালচার -এ সত্যি বলতে একটা নীরব চাপ কাজ করে। বিশেষ করে উচ্চবিত্ত বা উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারে অনেক সময় এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে ইংলিশ মিডিয়াম মানেই ভালো শিক্ষা, ভালো ভবিষ্যৎ, ভালো আত্মবিশ্বাস। আবার অন্যদিকে উল্টো বিচারও আছে। অনেক বাংলা মাধ্যম পরিবার মনে করে ইংলিশ মিডিয়ামের বাচ্চারা বাংলা ভাষা আর সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যায়। এমনকি ছোট বাচ্চাদের মধ্যেও অকারণ একটা বিভাজন তৈরি হয়, “ও ইংলিশ মিডিয়াম”, “ও বাংলা মিডিয়াম”।

অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতা কি শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, নাকি কমায়?
স্বাস্থ্য
অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতা কি শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, নাকি কমায়?

আমি ডাক্তার হওয়ার কারণে একটা বিষয় প্রায়ই খেয়াল করি, এখনকার অনেক বাবা-মা শিশুর পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন। সত্যি বলতে আমিও এর বাইরে না। বিশেষ করে মা হওয়ার পর প্রথমদিকে আমারও সবসময় ভয় কাজ করত কোথাও জীবাণু আছে কিনা, মেয়ে মেঝেতে বসছে কিনা, বাইরে কিছু ধরছে কিনা। একটা সময় এমন ছিল, বাইরে থেকে বাসায় ফিরলেই সঙ্গে সঙ্গে জামা বদল, হাত ধোয়া, খেলনা পরিষ্কার নিয়ে আমি খুব বেশি কঠোর হয়ে গিয়েছিলাম। এমনকি মেয়েটা মাটিতে বসে খেললেও ভিতরে ভিতরে অস্বস্তি লাগত। কিন্তু পরে ধীরে ধীরে বুঝলাম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জরুরি হলেও “অতিরিক্ত জীবাণুভয়” আর স্বাস্থ্যকর স্বাস্থ্যবিধি এক জিনিস না।

কম সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিকল্পনা করবেন কীভাবে?
স্বাস্থ্য
কম সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিকল্পনা করবেন কীভাবে?

আমি আর আমার স্বামী দুজনই ডাক্তার। তাই আমাদের বাসায় প্রতিদিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা করা। সকালে দ্রুত বের হওয়ার তাড়া, সারাদিন হাসপাতালের ব্যস্ততা, আর রাতে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাসায় ফেরা, সব মিলিয়ে প্রতিদিন নতুন করে সুষম খাবার রান্না করা সবসময় সম্ভব হয় না। বাসায় সাহায্যের মানুষ থাকায় কিছুটা সুবিধা হয় ঠিকই, কিন্তু প্রতিদিন কী রান্না হবে, কীভাবে হবে, সবকিছু বিস্তারিত বুঝিয়ে দেওয়াও সহজ নয়। এই কারণেই কয়েক বছর ধরে আমি "মিল প্ল্যানিং" বা আগেভাগে খাবারের পরিকল্পনা করার অভ্যাস গড়ে তুলেছি।

মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য শিশুর স্ক্রিনবিহীন ১০টি বিনোদনমূলক কার্যক্রম
বিনোদন
মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য শিশুর স্ক্রিনবিহীন ১০টি বিনোদনমূলক কার্যক্রম

এখনকার সময়ে ছোট বাচ্চাকে কিছুক্ষণ শান্ত রাখতে গেলেই সবার আগে মোবাইলের কথা মাথায় আসে। সত্যি বলতে, আমি নিজেও এর বাইরে ছিলাম না। আমার ছেলে যখন বেশি কান্না করত বা আমি রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকতাম, তখন কার্টুন চালিয়ে দেওয়া অনেক সহজ সমাধান মনে হতো। কিন্তু ধীরে ধীরে খেয়াল করলাম, মোবাইল বেশি দেখার দিনগুলোতে ও বেশি রেগে যাচ্ছে, মনোযোগ কমে যাচ্ছে, আর ছোট ছোট জিনিসেও বিরক্ত হচ্ছে। তখন থেকেই ভাবতে শুরু করি, স্ক্রিন ছাড়া কি ওকে আনন্দ দেওয়া সম্ভব?

ব্যস্ত রুটিনের মাঝেও পরিবারের জন্য সময় রাখা কেন জরুরি?
বিনোদন
ব্যস্ত রুটিনের মাঝেও পরিবারের জন্য সময় রাখা কেন জরুরি?

ব্যস্ততা যেন আমাদের সবাইকে একদম জড়িয়ে ফেলছে। আমার স্বামী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যবসার কাজে বাইরে থাকে। বাসায় ফিরে ও ক্লান্ত থাকে, এটা খুব স্বাভাবিক। আর আমি সারাদিন দুই বাচ্চা, রান্না, ঘরের কাজ সামলে দিনের শেষে এমন ক্লান্ত হয়ে যাই যে অনেক সময় নিজের সাথেই কথা বলতে ইচ্ছা করে না। এই ব্যস্ততার মধ্যে বুঝতেই পারিনি যে আমরা একই বাসায় থাকলেও, পরিবারের সাথে খুবই কম পরিমান সময় কাটানো হচ্ছে।

শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা
বিনোদন
শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা

শাহ আলমের ছেলে রাফির বয়স তিন বছর। ছোট্ট বাসা, চারপাশে ব্যস্ত রাস্তা, খেলাধুলার জন্য বড় মাঠও খুব একটা নেই। তাই বেশিরভাগ সময় রাফি বাসার ভেতরেই থাকে। কখনো মায়ের মোবাইলে ভিডিও দেখে, কখনো ছোট গাড়ি নিয়ে খেলে। কিন্তু রাফি খুব দ্রুত বিরক্ত হয়ে যায়, রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে চায় না, আবার ছোট্ট কিছুতেই রেগে যায় বিষয়গুলো এক সময় শাহ আলম খেয়াল করতে শুরু করেছিল। একদিন পাশের এলাকার এক স্বাস্থ্যকর্মী তাকে বললেন, “বাচ্চাদের শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা খুব দরকার।” প্রথমে শাহ আলম ভাবল, “এই ছোট্ট বাচ্চা আবার কী শরীরচর্চা করবে?” আসলে ছোট শিশুদের জন্য শরীরচর্চা মানে জিম বা ব্যায়াম না। দৌড়ানো, লাফানো, বল গড়ানো, হাত-পা নেড়ে খেলা, এসবই তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা।

নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে ক্রিয়েটিভ খেলনা বানানো
মননশীলতা
নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে ক্রিয়েটিভ খেলনা বানানো

শাহ আলম প্রায়ই একটা ব্যাপার খেয়াল করে। সারাদিন রাস্তার পাশে বসে জুতা সেলাই করার পর যখন বাসায় ফেরে, তার তিন বছরের ছেলে রাফি মোবাইল দেখতে চায়। বাসার এক কোণে বসে থাকা ছেলেটার জন্য নতুন খেলনা কেনার সামর্থ্য সবসময় থাকে না। বাজারে চাল, ডাল, ওষুধ, এসবের দাম সামলাতেই মাস শেষ হয়ে যায়।

শিশুর শিক্ষায় অনলাইন রিসোর্সের সঠিক ব্যবহার
শিক্ষা
শিশুর শিক্ষায় অনলাইন রিসোর্সের সঠিক ব্যবহার

কয়েক বছর আগেও আমি ভাবতাম পড়াশোনা মানেই বই-খাতা আর স্কুল। কিন্তু এখন সময় অনেক বদলে গেছে। এখন ছোট শিশুরাও ইউটিউবে ছড়া দেখে, মোবাইল অ্যাপে অক্ষর শেখে, অনলাইন গেমের মাধ্যমে সংখ্যা চর্চা করে। একজন বাবা হিসেবে আমিও ধীরে ধীরে বিভিন্ন অনলাইন রিসোর্স ব্যবহার করতে শিখছি। তবে একটা জিনিস খুব দ্রুত বুঝেছি, ইন্টারনেটে শিক্ষামূলক কনটেন্ট অনেক আছে ঠিকই, কিন্তু সব কনটেন্ট সমানভাবে উপকারী নয়। আবার অনলাইন শেখা যদি ভারসাম্য ছাড়া হয়, তাহলে সেটার নেতিবাচক প্রভাবও থাকতে পারে।

শিশুর সাথে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ মিনিট Quality Time কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
মননশীলতা
শিশুর সাথে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ মিনিট Quality Time কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

আমি একজন চাকরিজীবী বাবা। সকাল থেকে অফিস ও সংসারের দায়িত্ব সামলিয়ে দিনের শেষে মনে হয় নিজের জন্যই সময় থাকে না। কিন্তু বাবা হওয়ার পর বুঝতে পারলাম শিশুদের সবসময় অনেক খেলনা, দামি জিনিস বা বড় আউটিং দরকার হয় না। অনেক সময় তারা শুধু চায় বাবা-মা একটু মন দিয়ে তাদের পাশে বসুক।

স্ক্রিন টাইমকে কীভাবে লার্নিং টাইমে রূপান্তর করবেন?
শিক্ষা
স্ক্রিন টাইমকে কীভাবে লার্নিং টাইমে রূপান্তর করবেন?

একটা সময় ছিল, যখন আমি ভাবতাম ছোট বাচ্চাদের হাতে মোবাইল বা ট্যাব দেওয়া মানেই খারাপ অভ্যাস। বিশেষ করে একজন মা হিসেবে সবসময় একটা ভয় কাজ করত, বেশি স্ক্রিন ব্যবহার কি আমার মেয়ের মনোযোগ, আচরণ বা শেখার ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে? কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝলাম, আজকের পৃথিবীতে প্রযুক্তিকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব। শিশুরা এখন এমন এক পরিবেশে বড় হচ্ছে, যেখানে স্মার্ট ডিভাইস তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তখন আমি বিষয়টাকে অন্যভাবে ভাবা শুরু করি। “কীভাবে পুরোপুরি বন্ধ করব” এর বদলে “কীভাবে সঠিকভাবে ব্যবহার শেখাব”, এই চিন্তাটাই আমার কাছে বেশি বাস্তবসম্মত মনে হয়েছে।

কোন বয়স থেকে বাচ্চার পড়াশোনা শুরু করা উচিত?
শিক্ষা
কোন বয়স থেকে বাচ্চার পড়াশোনা শুরু করা উচিত?

আমার মেয়ের বয়স এখন তিন মাস। এত ছোট একটা বাচ্চাকে দেখে অনেকেই মজা করে বলে, “এখন থেকেই আবার কী শেখাবে?” কিন্তু মজার বিষয় হলো, আমি আর আমার স্বামী এখন থেকেই ওকে বই পড়ে শোনাই। অনেকের কাছে এটা অদ্ভুত লাগতে পারে। কারণ আমাদের দেশে এখনও অনেকেই মনে করেন, পড়াশোনা মানেই খাতা-কলম, অ আ ক খ বা ABC শেখানো। কিন্তু শিশুদের শেখা আসলে এর অনেক আগেই শুরু হয়।

অল্প খরচে শিশুর জন্য তৈরি করুন একটি সুন্দর লার্নিং কর্নার
শিক্ষা
অল্প খরচে শিশুর জন্য তৈরি করুন একটি সুন্দর লার্নিং কর্নার

আমার ছেলে যখন প্রায় দুই বছরের কাছাকাছি, তখন একটা জিনিস খুব স্পষ্টভাবে বুঝতে পারতাম, ও সবকিছু নিয়েই কৌতূহলী। রান্নাঘরের চামচ, কাপড়ের ক্লিপ, পুরোনো বাক্স, সবকিছুই ওর কাছে খেলনা মনে হতো। তখন থেকেই ভাবতাম, বাসায় যদি ছোট্ট একটা লার্নিং কর্নার (শেখার কোণ) তৈরি করা যেত! কিন্তু সত্যি বলতে, আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারে “লার্নিং সেটআপ” শুনলেই অনেক সময় মনে হয় অনেক টাকা লাগবে। বড় বইয়ের তাক, দামি খেলনা, দামি টেবিল, এগুলো না থাকলে বুঝি সম্ভব না।

শিশুকে অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস থেকে দূরে রাখার উপায়
স্বাস্থ্য
শিশুকে অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস থেকে দূরে রাখার উপায়

আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারে একটা বাস্তবতা আছে। বাবা-মা সবসময় একদম স্বাস্থ্যকর খাবার প্রস্তুত করে দিতে পারেন না। আমি অফিস থেকে ক্লান্ত হয়ে ফিরি, স্ত্রীও সারাদিন দুই বাচ্চা সামলাতে সামলাতে ক্লান্ত হয়ে যায়। তখন সহজ সমাধান হিসেবে বিস্কুট, চিপস বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার অনেক সময় হাতের কাছেই থাকে। কিন্তু শিশুদের অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আসক্তি ধীরে ধীরে বড় সমস্যায় পরিণত হতে পারে।

ভাইবোনদের একসাথে খেলাধুলার উপকারিতা
বিনোদন
ভাইবোনদের একসাথে খেলাধুলার উপকারিতা

ফাহমিদা বেগমের বাসায় আলাদা খেলনার বাক্স নেই, বড় কোনো খেলার ঘরও নেই। কিন্তু বিকেল হলেই তার তিন সন্তান মিলে পুরো ঘরটাকে যেন খেলাধুলার দুনিয়া বানিয়ে ফেলে। কখনো বড় দুই বোন ছোট ভাইকে নিয়ে “স্কুল স্কুল” খেলে, কখনো বালিশ দিয়ে ঘর বানায়, কখনো আবার ঝগড়া করতে করতেই আবার খেলতে শুরু করে।

শিক্ষাগত ডিগ্রি ছাড়াও কিভাবে শিশুকে সঠিক পথে গাইড করবেন?
শিক্ষা
শিক্ষাগত ডিগ্রি ছাড়াও কিভাবে শিশুকে সঠিক পথে গাইড করবেন?

শাহ আলমের নিজের পড়াশোনা খুব বেশি দূর পর্যন্ত হয়নি। ছোটবেলায় সংসারের টানাপোড়েনে স্কুল ছাড়তে হয়েছিল। এখন রাস্তার পাশে বসে জুতা সেলাই করেই সংসার চলে। মাঝে মাঝে সে চুপচাপ ভাবে, “আমি নিজেই তো বেশি পড়ালেখা জানি না, তাহলে ছেলেকে ঠিকভাবে মানুষ করবো কিভাবে?” তার তিন বছরের ছেলে রাফি এখন কথা বলা, প্রশ্ন করা, নতুন জিনিস শেখার বয়সে। পাশের বাসার এক আন্টি একদিন বলেছিলেন, “বাচ্চাকে মানুষ করতে হলে তো অনেক শিক্ষিত হতে হয়।” কথাটা শাহ আলমের মনে গেঁথে গিয়েছিল।

বাবা-সন্তানের দূরত্ব কমাতে যেসব খেলা সাহায্য করে
বিনোদন
বাবা-সন্তানের দূরত্ব কমাতে যেসব খেলা সাহায্য করে

ব্যবসার কাজের কারণে আমার দিনের বড় একটা সময় বাইরে কাটে। তাই যমজ ছেলেরা জন্মানোর পর প্রথম কয়েক মাস আমার ভেতরে একটা অদ্ভূত ভয় কাজ করত, “ওরা কি আমাকে যথেষ্ট চিনবে?”, “মায়ের সাথে যেমন কম্ফোর্ট ফিল করে, আমার সাথেও কি করবে?” শুরুতে আমি ভাবতাম, শিশুর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা মানে অনেক বড় কিছু। পরে বুঝলাম, ছোট ছোট মুহূর্তই আসলে সবচেয়ে দৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করে। আর শিশুর সঙ্গে সেই সম্পর্ক গড়ে তোলার সবচেয়ে স্বাভাবিক উপায়গুলোর একটি হলো “খেলা”।

Upper-Class পরিবারে শিশুদের Obesity বাড়ার কারণ
স্বাস্থ্য
Upper-Class পরিবারে শিশুদের Obesity বাড়ার কারণ

কিছুদিন আগে মেয়েকে নিয়ে একটা বার্থডে পার্টিতে গিয়েছিলাম। সেখানে খেয়াল করলাম প্রায় সব বাচ্চার হাতেই সফট ড্রিঙ্ক, চিপ্স, চকলেট বা ফাস্ট ফুড। বিষয়টা যদিও নতুন কিছু না, কিন্তু একজন ডাক্তার আবার মা - দুই দিক থেকেই আমি একটা বিষয় খুব খেয়াল করি। সেটা হলো, ইদানিং আপার ক্লাস আর আপার মিডল ক্লাস পরিবারগুলোর শিশুদের মধ্যে অবিসিটি (obesity) বা ওজনাধিক্যের সমস্যা আগের তুলনায় অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। একসময় আমাদের দেশে অপুষ্টি নিয়ে বেশি কথা হতো। তবে এখন তার পাশাপাশি শিশুদের ওজনাধিক্য ও দ্রুত বাড়ছে।

ভাই-বোনের সম্পর্ক মজবুত করতে ঘরোয়া খেলাধুলার গুরুত্ব
বিনোদন
ভাই-বোনের সম্পর্ক মজবুত করতে ঘরোয়া খেলাধুলার গুরুত্ব

আমি আর আমার স্বামী এখন একটা বিষয় নিয়ে প্রায়ই ভাবি, কীভাবে ছেলেমেয়েদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করা যায়। যদিও এখনো ওদের সেরকমভাবে খেলার বয়স হয়নি যেহেতু মেয়েটার বয়স মাত্র ৩ মাস। আমি আশেপাশে অনেক পরিবারেই দেখেছি, ভাইবোন একই ঘরে বড় হলেও তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়। আবার কিছু ভাইবোন আছে, যারা বড় হয়েও একে অপরের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়।

অতিরিক্ত রুটিন কি শিশুর স্বাভাবিক আবেগ কমিয়ে দেয়?
মননশীলতা
অতিরিক্ত রুটিন কি শিশুর স্বাভাবিক আবেগ কমিয়ে দেয়?

আমার মেয়ের বয়স এখন পাঁচ। আর সত্যি বলতে, ওর দৈনন্দিন রুটিন কখনো কখনো আমার নিজের ছোটবেলার পুরো সপ্তাহের রুটিনের থেকেও বেশি গোছানো মনে হয়। স্কুল, আর্ট ক্লাস, ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ, ইংরেজি চর্চা, ইত্যাদি সব মিলিয়ে ওর সময় প্রায় পুরোটা আগেই ভাগ করা থাকে।

ঘরের সাধারণ খাবার দিয়েও কিভাবে Balanced Nutrition বজায় রাখা যায়?
স্বাস্থ্য
ঘরের সাধারণ খাবার দিয়েও কিভাবে Balanced Nutrition বজায় রাখা যায়?

আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন মা। আমার স্বামী ছোট ব্যবসা করেন। দুই বাচ্চা, সংসার, বাজার সব মিলিয়ে মাসের হিসাব করে চলতে হয়। তাই সত্যি বলতে, প্রতিদিন দামি পুষ্টিকর ডায়েট অনুসরণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না।

বাচ্চাদের মনের বিকাশ: খেলাধুলা ও বইপড়া
শিক্ষা
বাচ্চাদের মনের বিকাশ: খেলাধুলা ও বইপড়া

আমরা অনেক সময় আমাদের শিশুরা যখন খেলতে বসে, তখন তাকে থামিয়ে দিয়ে পড়তে বসাই বা যখন বই নিয়ে বসে, তখন তাকে খেলতে পাঠাই। আমরা বইপড়া ও খেলাধুলাকে অনেক সময় আলাদা করে দেখি, কিন্তু সত্যিটা হলো খেলাধুলা এবং বইপড়া দুইটিই শিশুর জন্য সমান গুরুত্বের এবং এগুলো একসাথে শিশুর মনের সঠিক বিকাশে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে।

শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করা
মূল্যবোধ
শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করা

সচেতন অভিভাবক হিসেবে আমাদের একটি গুরু দায়িত্ব হচ্ছে আমাদের শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করা, কেননা এটি একটি শিশুর পরিচয়, মূল্যবোধ এবং মানসিক গঠনের সাথে গভীরভাবে জড়িত। একটি শিশু যখন ছোটবেলা থেকেই নিজের দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে শুরু করে, তখন সে নিজের শিকড় সম্পর্কে সচেতন হয় এবং নিজের পরিচয় নিয়ে গর্ববোধ করতে শেখে। নিজের দেশের সংস্কৃতি জানার মাধ্যমে একটি শিশু বুঝতে পারে তার ভাষা, ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং সমাজের গুরুত্ব কী। এই কারণেই শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি শেখানো শুধু একটি অতিরিক্ত বিষয় নয়, বরং তার সঠিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। নিজের দেশের সংস্কৃতি একটি শিশুর আত্মপরিচয় গঠনে সহায়তা করে এবং তাকে আত্মবিশ্বাসীও করে তোলে।

সৃজনশীলতা ও দক্ষতা উন্নয়ন (ছবি আঁকা)
মননশীলতা
সৃজনশীলতা ও দক্ষতা উন্নয়ন (ছবি আঁকা)

ছবি আঁকা হচ্ছে শিশুর মনের ভাষা প্রকাশের একটি বড় মাধ্যম। একটি শিশু যখন তার চারপাশের পরিবেশ দেখে তখন সে ঐ পরিবেশ থেকে যা উপলব্ধি করে তা সে ছবি আঁকার মাধ্যমে প্রকাশ করে। আমরা অভিভাবকরা অনেক সময় ভেবে থাকি ছবি আঁকা মানে কেবল কিছু আঁকিবুঁকি আর রং করা কিন্তু ছবি আঁকা হচ্ছে মূলত শিশুদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

স্ক্রিন টাইম পরিমিত রাখার উপায়
মননশীলতা
স্ক্রিন টাইম পরিমিত রাখার উপায়

ডিজিটাল এই যুগে শিশুদের জন্য স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার বা টিভি ব্যবহার এখন একেবারেই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যেমন চোখের সমস্যা, ঘুমের ঘাটতি, মনোযোগের অভাব, ধৈর্য কমে যাওয়া এবং সামাজিক দক্ষতা কমে যাওয়া ইত্যাদি। যদিও বর্তমান যুগে শূন্য স্ক্রিন টাইম প্রায় অসম্ভব কিন্তু স্ক্রিন টাইম পরিমিত রাখা সম্ভব। তাছাড়া যদি স্ক্রিন টাইম একেবারে শূন্য রাখা হয় তবে বাচ্চারা বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন টেকনোলজির সাথে পরিচিত হতে পারবে না বা পিছিয়ে পড়বে। কেননা শিশুরা বিভিন্নধরণের শিক্ষামূলক ইন্টারেক্টিভ কনটেন্টের মাধ্যমে নতুন নতুন বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে খুব সহজেই জানতে পারে। সেটি হতে পারে বিজ্ঞান সম্পর্কে, মহাবিশ্ব সম্পর্কে আবার নিজেদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ইত্যাদি নানা বিষয় সম্পর্কে।

স্ক্রিন টাইম
মননশীলতা
স্ক্রিন টাইম

বর্তমান সময়ে আমাদের মা-বাবাদের সময় উপযোগী একটি অভিযোগ হচ্ছে বাচ্চা মোবাইলে আসক্ত। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি সময়ের সাথে সাথে বাচ্চা কেনো মোবাইলে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে? এই আসক্তি কি হঠাৎ করে শুরু নাকি ধীরেধীরে অনেক সময় নিয়ে তৈরি হয়েছে?

স্ক্রিন টাইম বনাম বই পড়া
শিক্ষা
স্ক্রিন টাইম বনাম বই পড়া

বর্তমান সময়ে শিশুদের জীবনে স্ক্রিন একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। মোবাইল, ট্যাব বা টেলিভিশন এখন প্রায় সব ঘরেই আছে। তাই অনেক অভিভাবকের মনে প্রশ্ন জাগে স্ক্রিন টাইম ভালো, নাকি বই পড়া বেশি উপকারী? American Academy of Pediatrics এর বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় যে বিষয়টি একপাক্ষিক নয়। প্রযুক্তি যেমন নতুন নতুন জ্ঞান আহরণের নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি এর অতিরিক্ত ব্যবহার কিছু ঝুঁকিও তৈরি করছে। তাই স্ক্রিন টাইম ও বই পড়ার মধ্যে তুলনার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক ভারসাম্য রাখা। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের উপস্থিতি ও দিকনির্দেশনা সবচেয়ে জরুরি। সেটি স্ক্রিন টাইম হোক বা বই পড়া, দুটিই সচেতনভাবে ব্যবহার করতে হবে।