লোগো

2 টি ট্যাগ

ট্যাগ ফিল্টার করুন

আত্মনিয়ন্ত্রণআত্মবিশ্বাসউচ্চ মধ্যবিত্তউচ্চবিত্তউৎসবএকক পরিবারএকক সন্তানএকাধিক সন্তানকর্মজীবী পরিবারকল্পনাশক্তিখাদ্যগ্রামীণ পরিবারডিজিটাল শিক্ষানবজাতক শিশুনিম্ন মধ্যবিত্তনিম্নআয়ের পরিবারনিম্নবিত্তনৈতিক শিক্ষাপড়াশোনার অভ্যাসপরামর্শপারিবারিক ঐতিহ্যপিতামাতাপ্যারেন্টিং ইস্যুপ্রারম্ভিক শিক্ষাবই পড়ার অভ্যাসবয়স ০-১বয়স ১-৩বয়স ১০-১৩বয়স ১৩-১৫বয়স ২-৭বয়স ৩-৫বয়স ৫-৭বয়স ৭-১০বাবা ও শিশুবাংলা শিক্ষাবাংলা সংস্কৃতিবাংলাদেশি প্যারেন্টিংবিনোদনভাষা বিকাশমধ্যবিত্তমননশীলতা মনোযোগ বৃদ্ধিমা ও শিশুমানসিক বিকাশমূল্যবোধযৌথ পরিবারশহুরে পরিবারশারীরিক বিকাশশিক্ষণ পদ্ধতিশিক্ষাশিক্ষামূলক খেলাশিশুশিশু যত্নশিশুর আচরণশিশুর আবেগসম্মানবোধসহানুভূতিসাধারণ সমস্যাসামাজিক দক্ষতাসামাজিক মূল্যবোধসৃজনশীলতাস্কুল প্রস্তুতিস্ক্রিন টাইমস্বাস্থ্যহোমওয়ার্ক
১০ মাসের শিশুর খাবার নিয়ে দ্বিধা: কার পরামর্শ শুনবেন, কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন
জিজ্ঞাসা
১০ মাসের শিশুর খাবার নিয়ে দ্বিধা: কার পরামর্শ শুনবেন, কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন

প্রশ্নঃ আমি প্রথমবার মা হয়েছি। আমার মেয়ের বয়স এখন ১০ মাস, ওর আর কোনো ভাইবোন নেই। বাসার সবাই একেকজন একেক রকম পরামর্শ দেন। কেউ বলেন এখন থেকেই সব খাবার দিতে, কেউ বলেন আরও অপেক্ষা করতে। এত ভিন্ন ভিন্ন কথা শুনে খুব দ্বিধায় আছি। এমন পরিস্থিতিতে কোন বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত? প্রথমবার মা হলে শিশুর খাবার নিয়ে দ্বিধায় পড়া খুব স্বাভাবিক। বিশেষ করে বাসার সবাই যখন একেকজন একেক রকম পরামর্শ দেন। যেমনঃ কেউ বলেন “এখন থেকেই সব খাওয়াও”, কেউ বলেন “আরও অপেক্ষা করো”, তখন একজন মায়ের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু শিশুর খাবারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বয়স, নিরাপত্তা, পুষ্টি এবং শিশুর প্রস্তুতি। শুধু বড়দের অভিজ্ঞতা নয়।

হারলেই ভেঙে পড়ে: শিশুকে মানসিকভাবে শক্ত করে গড়ার উপায়
জিজ্ঞাসা
হারলেই ভেঙে পড়ে: শিশুকে মানসিকভাবে শক্ত করে গড়ার উপায়

প্রশ্নঃ আমার দুই ছেলে। বড়টার বয়স ৮ বছর, ছোটটার ৫ বছর। বড় ছেলে কোনো খেলায় বা পড়াশোনায় হারলে খুব ভেঙে পড়ে। রেগে যায়, কান্না করে, আবার বলে সে আর কখনো খেলবে না। ছোট একটা হারও ও মেনে নিতে পারে না। ওকে কীভাবে মানসিকভাবে শক্ত করে গড়ে তুলতে পারি?

দাদির আদর আর মায়ের দুশ্চিন্তা: শিশুর খাবার ও মোবাইল অভ্যাস কীভাবে সামলাবেন?
জিজ্ঞাসা
দাদির আদর আর মায়ের দুশ্চিন্তা: শিশুর খাবার ও মোবাইল অভ্যাস কীভাবে সামলাবেন?

প্রশ্ন: আমি একজন চাকরিজীবী মা। আমার ছেলে ১ বছর ৬ মাসের, ওর আর কোনো ভাইবোন নেই। অফিসে যাওয়ার সময় ওকে ওর দাদির কাছে রেখে যাই। সমস্যা হলো, দাদি ওকে খুব আদর করে প্রায়ই চিপস, চকলেট দেন, আবার খাওয়ানোর সময় মোবাইলে কার্টুনও চালিয়ে দেন। আমি এগুলো একদমই চাই না, কিন্তু কিছু বললে উনি কষ্ট পান। এমন অবস্থায় কী করলে সবাইকে সম্মান রেখেও বিষয়টা সামলানো যায়?

বাবা-মায়ের সম্পর্ক কি সত্যিই শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে প্রভাব ফেলে?
মূল্যবোধ
বাবা-মায়ের সম্পর্ক কি সত্যিই শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে প্রভাব ফেলে?

আমি আগে ভাবতাম, সন্তান মানুষ করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাকে ভালো স্কুলে পড়ানো, ঠিকমতো খাওয়ানো আর ভবিষ্যতের জন্য টাকা জমানো। কিন্তু বাবা হওয়ার পর ধীরে ধীরে একটা বিষয় বুঝতে শুরু করেছি, শিশুরা শুধু আমাদের কথা শুনে বড় হয় না, তারা আমাদের সম্পর্ক “দেখে” বড় হয়।

যৌথ পরিবারে একসাথে খেলা: শুধু বিনোদন নয়, সম্পর্কও মজবুত করে
বিনোদন
যৌথ পরিবারে একসাথে খেলা: শুধু বিনোদন নয়, সম্পর্কও মজবুত করে

আমাদের বাসায় মানুষ সবসময় একটু বেশি। আমি, আমার স্ত্রী, দুই বাচ্চা, আর আমার বাবা-মা, একসাথে থাকি। যৌথ পরিবারে থাকার ভালো দিক যেমন আছে, তেমনি ছোটখাটো চাপও আছে। অফিস থেকে ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরি, বাবা-মায়ের আলাদা চাহিদা থাকে, বাচ্চাদের সামলানো থাকে, সংসারের হিসাব থাকে। এর মধ্যে অনেক সময় খেয়ালই করা হয় না যে আমরা একই বাসায় থাকলেও একসাথে “সময় কাটানো” আসলে কমে যাচ্ছে।

সবচেয়ে দামী খেলনা কি বাবা-মায়ের মনোযোগের বিকল্প হতে পারে?
বিনোদন
সবচেয়ে দামী খেলনা কি বাবা-মায়ের মনোযোগের বিকল্প হতে পারে?

সন্তান হওয়ার পর একটা জিনিস আমি খুব কাছ থেকে বুঝেছি, বাজারে শিশুদের জন্য জিনিসের কোনো শেষ নেই। দামি মিউজিক্যাল খেলনা, স্মার্ট শেখার যন্ত্র, স্বয়ংক্রিয় দোলনা, বিদেশি অ্যাক্টিভিটি সেট দেখে অনেক সময় মনে হয়, “এসব না কিনলে বুঝি শিশুর বিকাশ পিছিয়ে যাবে।” আমাদের মতো উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারে এই চাপ আরও বেশি। আত্মীয়স্বজনও অনেক সময় বলেন, “বাচ্চাদের জন্য সেরা জিনিসটাই তো নিতে হবে।” আমিও শুরুতে ভাবতাম, বেশি দামি খেলনা মানেই হয়তো বেশি শেখা।

শিশুর শিক্ষাকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি?
মূল্যবোধ
শিশুর শিক্ষাকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি?

ফাহমিদা বেগম ছোটবেলায় খুব বেশি পড়াশোনা করতে পারেননি। সংসারের অভাব, দ্রুত কাজের দায়িত্ব, সব মিলিয়ে অল্প বয়সেই স্কুল ছাড়তে হয়েছিল। এখন গার্মেন্টসে দীর্ঘ সময় কাজ করার পরে মাঝে মাঝে তিনি মেয়েদের পড়তে বসা দেখেন আর মনে মনে ভাবেন, “ছেলে-মেয়েদেরকে যেন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারি।”

শিশু শিক্ষার জন্য কার্যকর রুটিন অনুসরণ করানো
শিক্ষা
শিশু শিক্ষার জন্য কার্যকর রুটিন অনুসরণ করানো

ফাহমিদা বেগমের বাসায় পড়াশোনার জন্য আলাদা কোনো শান্ত পরিবেশ নেই। এক রুমের ঘরে টিভির শব্দ, রান্নার আওয়াজ, ছোট ছেলের কান্না এসবকিছুর মাঝেই বড় দুই মেয়েকে পড়তে বসতে হয়। কখনো তারা রাতে পড়ে, কখনো সকালে, আবার কোনোদিন একদমই বসতে চায় না।

বড় সন্তানের উপর ছোট ভাইবোনের দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া / বড় বোনকে “দ্বিতীয় মা” বানানো কি ঠিক?
মননশীলতা
বড় সন্তানের উপর ছোট ভাইবোনের দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া / বড় বোনকে “দ্বিতীয় মা” বানানো কি ঠিক?

ফাহমিদা বেগমের বড় মেয়েটার বয়স মাত্র ৯ বছর। কিন্তু অনেক সময় তাকে দেখে মনে হয় সে যেন এই বাসার আরেকজন ছোট মা। সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে ছোট ভাইকে খাওয়ানো, বিকেলে তাকে ঘুম পাড়ানো, মা কাজে গেলে নজর রাখা; এসব এখন তার দৈনন্দিন কাজের অংশ। ফাহমিদা নিজেও বুঝতে পারেন, মেয়েটার ওপর দায়িত্ব একটু বেশিই পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু উপায়ও যেন খুব বেশি নেই। গার্মেন্টসের চাকরি, সংসারের কাজ, স্বামীর অনিয়মিত আয়, সব মিলিয়ে বড় মেয়েটার সাহায্য ছাড়া অনেক সময় সংসার সামলানো কঠিন হয়ে যায়।

শিশুর স্ক্রিন টাইম: শুধু বিনোদন নয়, শেখার সুযোগও হতে পারে
বিনোদন
শিশুর স্ক্রিন টাইম: শুধু বিনোদন নয়, শেখার সুযোগও হতে পারে

আমাদের বাসায় একটা সময় ছিল, যখন স্ক্রিন টাইম নিয়ে আমি খুবই বিরক্ত হয়ে যেতাম। হাসপাতালে দীর্ঘ সময় কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে দেখতাম, আমার মেয়ে ট্যাবলেট নিয়ে কার্টুন দেখছে। প্রথমে মনে হতো, পুরো বিষয়টাই একদম বন্ধ করে দিই। কিন্তু পরে বুঝলাম, আজকের সময়ে স্ক্রিন পুরোপুরি এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব। বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিশু স্ক্রিনে কী দেখছে, কতক্ষণ দেখছে, আর কীভাবে ব্যবহার করছে। সত্যি বলতে, সব স্ক্রিন টাইম একরকম না।

“ইংলিশ মিডিয়াম বনাম বাংলা মিডিয়াম” শহুরে বাবা-মায়ের দ্বিধা
শিক্ষা
“ইংলিশ মিডিয়াম বনাম বাংলা মিডিয়াম” শহুরে বাবা-মায়ের দ্বিধা

আমাদের মেয়ের স্কুলে ভর্তি করার সময় আমি আর আমার স্বামী সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটা শুনেছি, সেটা হলো, “ইংলিশ মিডিয়ামে দিচ্ছেন না?” ঢাকার শহুরে প্যারেন্টিং কালচার -এ সত্যি বলতে একটা নীরব চাপ কাজ করে। বিশেষ করে উচ্চবিত্ত বা উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারে অনেক সময় এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে ইংলিশ মিডিয়াম মানেই ভালো শিক্ষা, ভালো ভবিষ্যৎ, ভালো আত্মবিশ্বাস। আবার অন্যদিকে উল্টো বিচারও আছে। অনেক বাংলা মাধ্যম পরিবার মনে করে ইংলিশ মিডিয়ামের বাচ্চারা বাংলা ভাষা আর সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যায়। এমনকি ছোট বাচ্চাদের মধ্যেও অকারণ একটা বিভাজন তৈরি হয়, “ও ইংলিশ মিডিয়াম”, “ও বাংলা মিডিয়াম”।

অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতা কি শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, নাকি কমায়?
স্বাস্থ্য
অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতা কি শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, নাকি কমায়?

আমি ডাক্তার হওয়ার কারণে একটা বিষয় প্রায়ই খেয়াল করি, এখনকার অনেক বাবা-মা শিশুর পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন। সত্যি বলতে আমিও এর বাইরে না। বিশেষ করে মা হওয়ার পর প্রথমদিকে আমারও সবসময় ভয় কাজ করত কোথাও জীবাণু আছে কিনা, মেয়ে মেঝেতে বসছে কিনা, বাইরে কিছু ধরছে কিনা। একটা সময় এমন ছিল, বাইরে থেকে বাসায় ফিরলেই সঙ্গে সঙ্গে জামা বদল, হাত ধোয়া, খেলনা পরিষ্কার নিয়ে আমি খুব বেশি কঠোর হয়ে গিয়েছিলাম। এমনকি মেয়েটা মাটিতে বসে খেললেও ভিতরে ভিতরে অস্বস্তি লাগত। কিন্তু পরে ধীরে ধীরে বুঝলাম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জরুরি হলেও “অতিরিক্ত জীবাণুভয়” আর স্বাস্থ্যকর স্বাস্থ্যবিধি এক জিনিস না।

দাদা-দাদী, নানা-নানীর সাথে সম্পর্ক শিশুর মানসিক বিকাশে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
মূল্যবোধ
দাদা-দাদী, নানা-নানীর সাথে সম্পর্ক শিশুর মানসিক বিকাশে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

আমার ছেলে এখন তিন বছরের। আর ছোট মেয়েটা মাত্র তিন মাসের। আমরা শহরে থাকি, কারণ আমার স্বামীর ব্যবসা এখানে। কিন্তু আমাদের দুই পরিবারের বড়রা যেমন দাদা-দাদী, নানা-নানী, সবাই গ্রামে থাকেন। তাই বছরের ছুটির সময়গুলোতে আমরা গ্রামে যাওয়ার চেষ্টা করি। সত্যি কথা বলতে, আগে আমি ভাবতাম এটা শুধু “আত্মীয়দের সাথে দেখা করা”। কিন্তু মা হওয়ার পর বুঝেছি, এই সম্পর্কগুলো শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে অনেক বড় ভূমিকা রাখে।

মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য শিশুর স্ক্রিনবিহীন ১০টি বিনোদনমূলক কার্যক্রম
বিনোদন
মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য শিশুর স্ক্রিনবিহীন ১০টি বিনোদনমূলক কার্যক্রম

এখনকার সময়ে ছোট বাচ্চাকে কিছুক্ষণ শান্ত রাখতে গেলেই সবার আগে মোবাইলের কথা মাথায় আসে। সত্যি বলতে, আমি নিজেও এর বাইরে ছিলাম না। আমার ছেলে যখন বেশি কান্না করত বা আমি রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকতাম, তখন কার্টুন চালিয়ে দেওয়া অনেক সহজ সমাধান মনে হতো। কিন্তু ধীরে ধীরে খেয়াল করলাম, মোবাইল বেশি দেখার দিনগুলোতে ও বেশি রেগে যাচ্ছে, মনোযোগ কমে যাচ্ছে, আর ছোট ছোট জিনিসেও বিরক্ত হচ্ছে। তখন থেকেই ভাবতে শুরু করি, স্ক্রিন ছাড়া কি ওকে আনন্দ দেওয়া সম্ভব?

ছোটবেলা থেকেই শিশুকে সহযোগিতার মানসিকতা শেখানো
মূল্যবোধ
ছোটবেলা থেকেই শিশুকে সহযোগিতার মানসিকতা শেখানো

শাহ আলমের ছেলে রাফির বয়স এখন তিন বছর। ছোট্ট একটা ঘরে তাদের সংসার, কিন্তু কাজের যেন শেষ নেই। রাফির মা গর্ভবতী হওয়ায় এখন আগের চেয়ে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায়। একদিন রান্না করার সময় হঠাৎ তার হাত থেকে চামচ পড়ে যায়। তখন ছোট্ট রাফি দৌড়ে গিয়ে চামচটা তুলে দেয়। ঘটনাটা খুব ছোট ছিল, কিন্তু শাহ আলম চুপচাপ সেটা দেখছিল। তার মনে হচ্ছিল, শিশুকে ছোটবেলা থেকেই যদি অন্যকে সাহায্য করতে শেখানো যায়, তাহলে সেটাই হয়তো তার চরিত্রের বড় শক্তি হয়ে দাঁড়াবে।

শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা
বিনোদন
শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা

শাহ আলমের ছেলে রাফির বয়স তিন বছর। ছোট্ট বাসা, চারপাশে ব্যস্ত রাস্তা, খেলাধুলার জন্য বড় মাঠও খুব একটা নেই। তাই বেশিরভাগ সময় রাফি বাসার ভেতরেই থাকে। কখনো মায়ের মোবাইলে ভিডিও দেখে, কখনো ছোট গাড়ি নিয়ে খেলে। কিন্তু রাফি খুব দ্রুত বিরক্ত হয়ে যায়, রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে চায় না, আবার ছোট্ট কিছুতেই রেগে যায় বিষয়গুলো এক সময় শাহ আলম খেয়াল করতে শুরু করেছিল। একদিন পাশের এলাকার এক স্বাস্থ্যকর্মী তাকে বললেন, “বাচ্চাদের শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা খুব দরকার।” প্রথমে শাহ আলম ভাবল, “এই ছোট্ট বাচ্চা আবার কী শরীরচর্চা করবে?” আসলে ছোট শিশুদের জন্য শরীরচর্চা মানে জিম বা ব্যায়াম না। দৌড়ানো, লাফানো, বল গড়ানো, হাত-পা নেড়ে খেলা, এসবই তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা।

হাতে তৈরি লার্নিং রিসোর্স
শিক্ষা
হাতে তৈরি লার্নিং রিসোর্স

শাহ আলমের ছেলে রাফির বয়স এখন তিন বছর। আশেপাশের অনেক বাচ্চার হাতে রঙিন বই বা খেলনা দেখে মাঝে মাঝে তার খারাপ লাগে। বাজারে গেলে সে দেখে অক্ষর শেখার বোর্ড, সংখ্যা শেখার খেলনা, কথা বলা পুতুল সহ কত কিছু। কিন্তু মাসের শেষে ভাড়া, বাজার আর ওষুধের খরচ মিটিয়ে এসব কেনা প্রায় অসম্ভব।

চারপাশের পরিবেশ কীভাবে শিশুর শেখার শ্রেণিকক্ষ হতে পারে?
শিক্ষা
চারপাশের পরিবেশ কীভাবে শিশুর শেখার শ্রেণিকক্ষ হতে পারে?

শাহ আলমের ছেলে রাফির বয়স তিন বছর। ছোট্ট একটা ঘরে তাদের সংসার। খেলনা খুব বেশি নেই, বইও হাতে গোনা কয়েকটা। তবুও শাহ আলম একটা জিনিস খেয়াল করে, রাফি সারাক্ষণ আশেপাশের সবকিছু নিয়ে প্রশ্ন করে। রাস্তা দিয়ে গরু গেলে জিজ্ঞেস করে, “এটা কী খায়?” বৃষ্টি নামলে বলে, “পানি কোথা থেকে আসে?” জুতা সেলাইয়ের দোকানে বসে সুতা, হাতুড়ি, আঠা সহ সবকিছু নিয়েই তার কৌতূহল।

নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে ক্রিয়েটিভ খেলনা বানানো
মননশীলতা
নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে ক্রিয়েটিভ খেলনা বানানো

শাহ আলম প্রায়ই একটা ব্যাপার খেয়াল করে। সারাদিন রাস্তার পাশে বসে জুতা সেলাই করার পর যখন বাসায় ফেরে, তার তিন বছরের ছেলে রাফি মোবাইল দেখতে চায়। বাসার এক কোণে বসে থাকা ছেলেটার জন্য নতুন খেলনা কেনার সামর্থ্য সবসময় থাকে না। বাজারে চাল, ডাল, ওষুধ, এসবের দাম সামলাতেই মাস শেষ হয়ে যায়।

স্ক্রিন ছাড়াও কি শিশুর বিনোদন সম্ভব?
বিনোদন
স্ক্রিন ছাড়াও কি শিশুর বিনোদন সম্ভব?

আমি একজন চাকরিজীবী বাবা। সত্যি কথা বলতে কী, অনেক সময় ক্লান্তির কারণে মোবাইল বা কার্টুন আমাদের জন্য সহজ সমাধান হয়ে যায়। অফিস থেকে ফিরে যখন মাথা আর কাজ করতে চায় না, তখন বাচ্চাকে কিছুক্ষণ স্ক্রিনের সামনে বসিয়ে রাখাটা বেশ সহজ মনে হয়। আমিও করেছি। বিশেষ করে আমার চার বছরের ছেলে খুব দ্রুত ইউটিউব আর কার্টুনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছিল। একসময় এমন হয়েছিল, মোবাইল না দিলে সে বিরক্ত হয়ে যেত। তখন আমি আর ওর মা বুঝলাম, বিষয়টা নিয়ে একটু সচেতন হওয়া দরকার।

শিশুর শিক্ষায় অনলাইন রিসোর্সের সঠিক ব্যবহার
শিক্ষা
শিশুর শিক্ষায় অনলাইন রিসোর্সের সঠিক ব্যবহার

কয়েক বছর আগেও আমি ভাবতাম পড়াশোনা মানেই বই-খাতা আর স্কুল। কিন্তু এখন সময় অনেক বদলে গেছে। এখন ছোট শিশুরাও ইউটিউবে ছড়া দেখে, মোবাইল অ্যাপে অক্ষর শেখে, অনলাইন গেমের মাধ্যমে সংখ্যা চর্চা করে। একজন বাবা হিসেবে আমিও ধীরে ধীরে বিভিন্ন অনলাইন রিসোর্স ব্যবহার করতে শিখছি। তবে একটা জিনিস খুব দ্রুত বুঝেছি, ইন্টারনেটে শিক্ষামূলক কনটেন্ট অনেক আছে ঠিকই, কিন্তু সব কনটেন্ট সমানভাবে উপকারী নয়। আবার অনলাইন শেখা যদি ভারসাম্য ছাড়া হয়, তাহলে সেটার নেতিবাচক প্রভাবও থাকতে পারে।

শিশুর মধ্যে কৌতূহল গড়ে তোলার উপায়
শিক্ষা
শিশুর মধ্যে কৌতূহল গড়ে তোলার উপায়

যমজ ছেলে হওয়ার পর একটা বিষয় আমি খুব কাছ থেকে বুঝতে শুরু করেছি, ছোট শিশুরা পৃথিবীকে আমাদের মতো দেখে না। আমরা যেখানে একটা সাধারণ চামচ দেখি, ওরা সেখানে নতুন একটা শব্দ, নতুন একটা স্পর্শ, নতুন একটা অভিজ্ঞতা খুঁজে পায়। কয়েকদিন আগে আমার এক ছেলে অনেকক্ষণ ধরে পর্দার নড়াচড়া দেখছিল। বাতাসে কাপড় দুলছে, আর সে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। তখন হঠাৎ মনে হলো, কৌতূহল যেন শিশুদের ভেতরে থাকা এক স্বাভাবিক শক্তি।

ঘুম কম হলে শিশুর আচরণ যেভাবে বদলে যায়
স্বাস্থ্য
ঘুম কম হলে শিশুর আচরণ যেভাবে বদলে যায়

মা হওয়ার আগে আমি ভাবতাম, বাচ্চা ঘুমালে শুধু শরীর বিশ্রাম পায়। কিন্তু সন্তান হওয়ার পর বুঝেছি, ছোট শিশুর জন্য ঘুম শুধু বিশ্রাম না, এটা তার মেজাজ, আচরণ, শেখার ক্ষমতা, এমনকি আবেগ নিয়ন্ত্রণের-এর সাথেও গভীরভাবে জড়িত। আমার ছেলে যখন ছোট ছিল, তখন একটা জিনিস প্রায়ই খেয়াল করতাম। যেদিন দুপুরে ঠিকমতো ঘুম হতো না, সেদিন সন্ধ্যার পর থেকেই ওর আচরণ পুরো বদলে যেত। সামান্য কথায় কান্না, বেশি রাগ, খেতে না চাওয়া, কোলে লেগে থাকা, সব একসাথে শুরু হতো।

“কথা না শুনলেই রাগ!”  ৩ বছরের শিশুর জেদ ও রাগ আসলে কেন বাড়ে?
মননশীলতা
“কথা না শুনলেই রাগ!” ৩ বছরের শিশুর জেদ ও রাগ আসলে কেন বাড়ে?

আমার ছেলে যখন দুই বছর পার করে তিনে পা দিল, তখন থেকেই আমি একটা নতুন জিনিস বুঝতে শুরু করি, এই বয়সের বাচ্চাদের মোড কখন কোন দিকে যায়, সেটা বোঝা সত্যিই কঠিন। একটু আগে যে বাচ্চা হাসছিল, পাঁচ মিনিট পর সেই একই বাচ্চা মাটিতে শুয়ে কান্না করছে শুধু একটা বিস্কুট বা খেলনার জন্য। শুরুতে আমি ভাবতাম, হয়তো আমি ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। পরে শিশুদের আচরণ নিয়ে পড়তে গিয়ে বুঝলাম, ২–৪ বছর বয়সে রাগ, জেদ, আবেগের বিস্ফোরণ, এগুলো আসলে খুবই স্বাভাবিক বিকাশের ধাপ।

যৌথ পরিবার কি শিশুর ব্যক্তিসত্তার বিকাশে সাহায্য করে?
মননশীলতা
যৌথ পরিবার কি শিশুর ব্যক্তিসত্তার বিকাশে সাহায্য করে?

আমাদের দেশে যৌথ পরিবার এখনো অনেক পরিবারের বাস্তবতা। বিশেষ করে সন্তান জন্মের পর দাদা-দাদী, নানা-নানী, চাচা-ফুপু বা খালা-মামাদের উপস্থিতি শিশুর বেড়ে ওঠায় একটা বিস্তার ভূমিকা রাখে। একটি শিশু শুধু মা-বাবার কাছ থেকেই না, পুরো পরিবারের পরিবেশ থেকেই নিজের পরিচয় বা Identity গঠন করতে শুরু করে।

ভাইবোনদের একসাথে খেলাধুলার উপকারিতা
বিনোদন
ভাইবোনদের একসাথে খেলাধুলার উপকারিতা

ফাহমিদা বেগমের বাসায় আলাদা খেলনার বাক্স নেই, বড় কোনো খেলার ঘরও নেই। কিন্তু বিকেল হলেই তার তিন সন্তান মিলে পুরো ঘরটাকে যেন খেলাধুলার দুনিয়া বানিয়ে ফেলে। কখনো বড় দুই বোন ছোট ভাইকে নিয়ে “স্কুল স্কুল” খেলে, কখনো বালিশ দিয়ে ঘর বানায়, কখনো আবার ঝগড়া করতে করতেই আবার খেলতে শুরু করে।

যৌথ পরিবারে সন্তান পালন
মূল্যবোধ
যৌথ পরিবারে সন্তান পালন

যমজ ছেলে হওয়ার পর আমি একটা জিনিস খুব দ্রুত বুঝতে পারলাম, সন্তান লালন-পালন শুধু মা-বাবার বিষয় না, বিশেষ করে যৌথ পরিবারে। আমাদের বাসায় বাচ্চাদের নিয়ে সবার আলাদা মতামত আছে। কেউ বলে বেশি কোলে নিলে অভ্যাস খারাপ হবে, কেউ বলে শিশুকে কান্না করতে দেওয়া উচিত না। কেউ চায় পুরোনো নিয়ম মেনে চলতে, আবার আমরা অনেক সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করতে চাই।

বাবা-সন্তানের দূরত্ব কমাতে যেসব খেলা সাহায্য করে
বিনোদন
বাবা-সন্তানের দূরত্ব কমাতে যেসব খেলা সাহায্য করে

ব্যবসার কাজের কারণে আমার দিনের বড় একটা সময় বাইরে কাটে। তাই যমজ ছেলেরা জন্মানোর পর প্রথম কয়েক মাস আমার ভেতরে একটা অদ্ভূত ভয় কাজ করত, “ওরা কি আমাকে যথেষ্ট চিনবে?”, “মায়ের সাথে যেমন কম্ফোর্ট ফিল করে, আমার সাথেও কি করবে?” শুরুতে আমি ভাবতাম, শিশুর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা মানে অনেক বড় কিছু। পরে বুঝলাম, ছোট ছোট মুহূর্তই আসলে সবচেয়ে দৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করে। আর শিশুর সঙ্গে সেই সম্পর্ক গড়ে তোলার সবচেয়ে স্বাভাবিক উপায়গুলোর একটি হলো “খেলা”।

সীমিত আয়ে শিশুর জন্য ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলা
মূল্যবোধ
সীমিত আয়ে শিশুর জন্য ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলা

ফাহমিদা বেগমদের বাসাটা খুব ছোট। এক রুমের ভেতরেই ঘুম, রান্না, পড়াশোনা সব চলে। স্বামীর কাজ কখনো থাকে, কখনো থাকে না। মাসের শেষে টাকার চিন্তা, বাসা ভাড়ার চাপ, বাচ্চাদের স্কুলের খরচ এসব নিয়ে ঘরে অশান্তি হওয়াও নতুন কিছু না। তবু আশেপাশের অনেকেই একটা বিষয় খেয়াল করে যে তাদের বাসায় গেলে বাচ্চাদের মুখে ভয় কম, হাসি বেশি। কারণ ইতিবাচক পারিবারিক পরিবেশ সবসময় টাকার ওপর নির্ভর করে না। অনেক সময় এটি নির্ভর করে ঘরের মানসিক অবস্থার ওপর।

দামী খেলনার চেয়ে Meaningful play কেন বেশি জরুরি
বিনোদন
দামী খেলনার চেয়ে Meaningful play কেন বেশি জরুরি

আমি আর আমার স্বামী দুজনই পেশাজীবী। তাই মেয়ের জন্য কিছু কিনতে গেলে সবসময় চেষ্টা করি ভালো জিনিসটাই কিনতে। একসময় মনে হতো, বেশি দামি খেলনা মানেই হয়তো বেশি শেখা, বেশি উন্নতি। বাসার এক কোণে ব্যাটারি চালিত খেলনা, কথা বলা পুতুল, গান বাজানো খেলনাসহ অনেক খেলনা জমে গিয়েছিল। কিন্তু একটা সময় আমি বুঝতে পারলাম, ব্যাটারি চালিত খেলনার চেয়ে ইন্টারেক্টিভ খেলনা শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যাটারি চালিত খেলনায় শিশুরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে না; তারা শুধু দেখে যায়।

বাচ্চাদের মনের বিকাশ: খেলাধুলা ও বইপড়া
শিক্ষা
বাচ্চাদের মনের বিকাশ: খেলাধুলা ও বইপড়া

আমরা অনেক সময় আমাদের শিশুরা যখন খেলতে বসে, তখন তাকে থামিয়ে দিয়ে পড়তে বসাই বা যখন বই নিয়ে বসে, তখন তাকে খেলতে পাঠাই। আমরা বইপড়া ও খেলাধুলাকে অনেক সময় আলাদা করে দেখি, কিন্তু সত্যিটা হলো খেলাধুলা এবং বইপড়া দুইটিই শিশুর জন্য সমান গুরুত্বের এবং এগুলো একসাথে শিশুর মনের সঠিক বিকাশে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে।

সৃজনশীলতা ও দক্ষতা উন্নয়ন (ছবি আঁকা)
মননশীলতা
সৃজনশীলতা ও দক্ষতা উন্নয়ন (ছবি আঁকা)

ছবি আঁকা হচ্ছে শিশুর মনের ভাষা প্রকাশের একটি বড় মাধ্যম। একটি শিশু যখন তার চারপাশের পরিবেশ দেখে তখন সে ঐ পরিবেশ থেকে যা উপলব্ধি করে তা সে ছবি আঁকার মাধ্যমে প্রকাশ করে। আমরা অভিভাবকরা অনেক সময় ভেবে থাকি ছবি আঁকা মানে কেবল কিছু আঁকিবুঁকি আর রং করা কিন্তু ছবি আঁকা হচ্ছে মূলত শিশুদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশের মাধ্যম
মননশীলতা
শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশের মাধ্যম

শিশুর সৃজনশীলতা তার চিন্তাভাবনা, কল্পনাশক্তি এবং যেকোনো ধরণের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি শিশু যখন নতুন কিছু ভাবতে পারে, নিজের মতো করে কিছু তৈরি করতে পারে বা কোনো সমস্যার ভিন্ন সমাধান খুঁজে বের করতে পারে, সেটিই তার সৃজনশীলতার প্রকাশ। সৃজনশীলতা শিশুদের আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ এবং ধৈর্য বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক দক্ষতাও বাড়ায়। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, সৃজনশীল কাজ শিশুদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ সক্রিয় করে এবং শেখার প্রক্রিয়াকে আরও আনন্দময় করে তোলে, ফলে তারা বিষয়গুলো খুব সহজে বোঝতে সক্ষম হয়।